ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ ॥
বঙ্গবন্ধু নিজে তার জন্মদিন পালন করতেন না। একজন বিদেশী সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমার জন্মই কি আর মৃত্যুই কি। আমার মনে হয় তিনি হয়তো নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন প্রতিটি জনগণের মুখে হাসি না ফোঁটা পর্যন্ত তিনি জন্ম দিন পালন করবেন না। এখন আমরা তার জন্মদিন পালন করি কেননা আমরা তার জন্মদিন পালন করতে বাধ্য। আসলে তার জন্মের সাথে বাংলাদেশের জন্মটা জড়িয়ে আছে। এই মানুষটির জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তিনি সারাটি জীবন বাঙালীর জন্য কাজ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে চ্যালেন আইয়ের আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে এমন্তব্য করেন অধ্যাপক, গবেষক ও ইতিহাসবিদ ড. আনোয়ার হোসেন।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু একেবারে কিশোর বয়স থেকেই রাজনীতি করতে শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি মারা গেলে আমার কবর যেন টুঙ্গীপাড়ায় দেওয়া হয় এবং আমার কবরে যেন একটা টিনের চুঙ্গা লাগানো হয়। তখন তাকে বলা হয়েছিল মসলমানদের কবরে তো টিনের চুঙ্গা লাগানো হয় না। তখন তিনি বলেছিলেন, টিনে চুঙ্গা লাগাতে বলছি এই কারণে যে, আমি একদিন এই টিনের চুঙ্গায় বাঙালী, বাঙালী বলতে বলতে রাজনীতি শুরু করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া লাগলেও আমি বলবো, আমি বাঙালী, বাংলা আমার ভাষা এবং বাংলা আমার দেশ। এই মানুষটি বাঙালীর জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।
আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, আমরা জানি ৫৫ বছর বয়সে তাকে হত্যা করা হয়েছে আর এর মধ্যে তার ১৪ বছরই কেটেছে জেলে। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই তাকে প্রথম কারারুদ্ধ করা হয় এবং বাঙালীর ৬ দফার সনদও তার হাত দিয়েই বেড়িয়ে এসেছে।
