বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো)’র আসন্ন অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের। ৫-৬ এপ্রিল বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হবে ন্যাটোর অধিবেশন। এই অধিবেশনে ন্যাটোভূক্ত ২৮ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যোগ দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানান, আগামী ৬-৭ এপ্রিল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। চীনা প্রেসিডেন্ট জিন পিং যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ- লাগো রিসোর্টে অবস্থান করবেন। ট্রাম্প-জিন পিংকেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন টিলারসন।
চীনের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর টিলারসন আগামী ১২ এপ্রিল রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করবেন বলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্ক টোনার টিলারসনের ন্যাটো অধিবেশনে যোগ না দেওয়া ও রাশিয়া সফর সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি।
ন্যাটোর অধিবেশনের সময় চীনা প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফর, আবার তারপরই টিলারসনের রাশিয়া সফর। ন্যাটোর অধিবেশনে যোগ না দিয়ে চীন ও রাশিয়া এই দুই পরাশক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই হয়তো ভাবছে ট্রাম্প সরকার এমনটাই ধারণা করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্প সবসময়ই রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের প্রশংসা করেন ও দেশটির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনের কথাও বলেন। আর এক্সন মবিলের নির্বাহী থাকাকালে রাশিয়া সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বারবারই ন্যাটোর সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, ন্যাটোর গুরুত্ব অনেক। তবে বর্তমানে ন্যাটোর যে কাঠামো রয়েছে তার পরিবর্তন করতে হবে। ন্যাটোকে আরো আধুনিক করতে হবে। ন্যাটো সেকেলের নিয়মে পরিচালতি হচ্ছে। এটি ঢেলে সাজানেরা প্রতি আহবান জানান ট্রাম্প।
নিরাপত্তার ব্যয়ের জন্য ন্যাটোর জোটভুক্ত রাষ্ট্রগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল। ন্যাটো দেশগুলোর প্রত্যেকেরই মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশ নিরাপত্তার জন্য ব্যয় করার কথা থাকলেও কোন দেশই তাদের যথাযথভাবে অর্থ পরিশোধ করে না।
ন্যাটো থেকে তাদের অর্থায়ন প্রত্যাহারের হুমকিও দিয়েছলেন ট্রাম্প। অবশ্য গত সপ্তায় জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মেরেকেল যুক্তরাষ্ট্র সফরে তাঁর দেশ ন্যাটোর ব্যয় বাড়াবে বলে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন।
ন্যাটো ১৯৪৯ সালে গঠিত হয়েছির মূলত সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য। ন্যাটোর একজন সাবেক কূটনীতিক বলেছেন, তিনি আশা করেন ন্যাটো অধিবেশনের সময় পরিবর্তন করে টিলারসন রাশিয়া ও ন্যাটো দুই সম্পর্কই সুরক্ষা করবেন। রাশিয়ার জন্য জোট সম্মেলন পরিহারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করেন তিনি। দ্য হিল
