নাটোর প্রতিনিধি ॥
ছাত্রলীগ আয়োজিত জঙ্গীবাদবিরোধী সমাবেশকে কেন্দ্র করে নাটোরে আহত এক ছাত্রলীগ নেতার এম্বুলেন্স শো-ডাউন এখন টক অব দা টাউন। শনিবার শহরের বড়হরিশপুরের শের ই বাংলা স্কুলমাঠে জেলা ছাত্রলীগের জঙ্গীবাদবিরোধী সমাবেশে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতিসহ উপস্থিত কয়েক হাজার ছাত্রলীগ কর্মীকে চমকে দিয়ে এম্বুলেন্সে নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন নাটোর সদর থানা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সোহানুর রহমান সুরুজ।
নেতা আসছেন, তাই ভাঙ্গা পা আর অসুস্থ শরীর নিয়ে হাজির হন তিনি। গত ২৬শে ফেব্রুয়ারী বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে যাওয়ার সময় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সুরুজসহ ছাত্রলীগের ৩ নেতা-কর্মী। এতে তার ডান পা ভেঙ্গে যায় ও অপর পায়ে হাটুর নিচে ফ্রাকচার হয়। এ ঘটনার ৪০ দিন পর ব্যান্ডেজ পায়ে শনিবার বাড়ি থেকে বের হন সুরুজ। একটি এম্বুলেন্সে চড়ে শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে আসেন সুরুজ। ভাঙ্গা পা নিয়ে বের হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত বাড়ি ফেরার পরামর্শ দিলেও তা উপেক্ষা করে সুরুজ সমাবেশে যান।
এদিকে সমাবেশস্থলে হঠাৎ করে এম্বুলেন্সের শব্দ শুনে আতংকিত হন বাইরে অপেক্ষমান লোকজন ও ছাত্রলীগ কর্মীরা। মাইকে বক্তব্য চলতে থাকলেও সেসময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নের্তৃবৃন্দের দৃষ্টি ছিলো এম্বুলেন্সের দিকে। মঞ্চের পাশে এম্বুলেন্স পৌছাতেই দেখা গেল ভাঙ্গা পা নিয়ে ভেতরে শুয়ে আছে আহত সুরুজ।
অসুস্থ হওয়া সত্বেও শেষ পর্যন্ত এম্বুলেন্স নিয়ে সমাবেশে যোগ দিতে আসা সুরুজকে দেখে মঞ্চে ডেকে নেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। এসময় স্থানীয় সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল তার পাশের চেয়ারে বসতে দেন সুরুজকে।
অসুস্থতা সত্বেও সমাবেশে আসা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ আহত সুরুজের মাথায় হাত রেখে তাকে দোয়া করেন। সোহাগ বলেন, ‘সুরুজের মত নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাই ছাত্রলীগের অহংকার’। ভালো চিকিৎসার জন্য সুরুজকে ঢাকায় আসার অনুরোধ করেন সাইফুর রহমান সোহাগ।
আহত অবস্থায় কেন সমাবেশে যোগ দিলেন জানতে চাইলে সোহানুর রহমান সুরুজ জানান, কেন্দ্র থেকে নেতা আসবেন নাটোরে, অথচ তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না, এমনটা হতে পারে না।
সুরুজ বলেন, ‘নাটোরে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কোন কর্মসূচী থাকলে আমার উৎসাহ সবচেয়ে বেশি থাকে। আমি চেষ্টা করি নিজ ইউনিট ও এলাকার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে যে কোন কর্মসূচী সফল করতে। নেতা এসেছেন, তাই ঘরে থাকতে পারলাম না আর। নেতা আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া করেছেন, এটাই আমার বড় পাওয়া। ক’ জন কর্মী নেতার দোয়া পায় এভাবে?
নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এস এম শাহাদাত রাজীব বলেন, ‘শুরু থেকেই যে কোন কর্মসূচীতে সুরুজ ভাইয়ের অংশগ্রহন ও সহযোগীতা আমরা পেয়ে আসছি। সংগঠনের প্রতি তার যে দায়িত্ববোধ, তা থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের অনেক কিছু শেখার আছে।
