কাপাসিয়া ব্যুরো ॥
গাজীপুর: কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৮৬ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা শুক্রবার দিনব্যাপী অনাড়ম্বর ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার তরগাঁওস্থ রুপনগর পালকি কমিউনিটি সেন্টারে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পদভারে মূখরিত হয়ে উঠেছিল তাদের মিলনমেলা। ফেইজবুক আইডি ‘বন্ধু মিস করছি তোমায়’ পেইজের বন্ধুরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে সারাদিন কাটিয়েছে। বন্ধুত্বের অনুভূতি এক চিরন্তন হৃদয় জাগানিয়া সুরে তাদের উজ্জীবিত করেছে। ‘বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িত গেলাম দেখা পাইলাম না, একটাই কথা আছে বাংলাতে বুক আর মুক বলে একসাথে সে হলো বন্ধু বন্ধু আমার, বন্ধুর তোর বারাত নিয়া আমি যাবো, বন্ধু বলে ডাকো যারে সেকি তোমায় ভুলতে পারে’ ইত্যাদি গান গেয়ে, নেতে, স্মৃতিচারণ করে মনের আনন্দ ভরে নিঃশস নিয়েছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

বন্ধু-৮৬’র পিকনিক আয়োজন কমিটির সভাপতি সাংবাদিক এফ এম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও সকলের সার্বিক সহযোগিতায় প্রাণবন্ত স্মৃতিচারণ করেন সাইফুল ইসলাম, উত্তম কুমার দাস, নজরুল ইসলাম, কামাল উদ্দিন শামীম, শ্যামল, রতন রক্ষিত, সেলিম হোসেন বকুল, শাকিল হাসান মোড়ল, হাসানুজ্জামান শাহীন, গোলাম সারোয়ার, আশরাফুল ইসলাম, ভাবনা রানী দাস, বিশ নাথ বনিক, ছানাউল্লাহ্, বিধান চন্দ্র মল্লিক প্রমুখ। স্মৃতিচারণের সময় প্রায় সকল বন্ধুরাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এর আগে সম্প্রতি বন্ধু-৮৬ গ্রুপের সদস্য লক্ষী রানী সরকারের স্বামী অখিল চন্দ্র সরকার এবং ডাঃ চন্দন কুমার বনিকের মৃত্যুতে তাঁদের স্মরণ করে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। এছাড়া অসুস্থ্য ভাবনা রানী দাসের সুস্থ্যতা কামনা করা হয়। আয়োজনে স্মৃতিচারণ শেষে স্মৃতি স্মারক ক্রেস্ট, গেঞ্জি ও বন্ধু তৌহিদা মনিরা রুবি’র রেডিয়াম ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মনোগ্রাম সম্বলিত বিশেষ উপহার বিতরণ করা হয়। এর আগে আয়োজক কমিটিকে বন্ধু পপি, সানজিদা, রুবি, লাকি, নাহিদা আনুষ্ঠানিক ভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
শুরুতেই বন্ধুদের আগমনে এক এক করে সবাইকে লাল গোলাপ দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। সকলের সার্বিক সহযোগিতায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠিত সফল মিলনমেলা আগামী দিনে আরো প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য সকলেই প্রত্যাশা করেন। সবারই প্রত্যাশা হৃদয়ের শুদ্ধতা, পবিত্রতা এবং মানবিক বন্ধুত্বের মাধ্যমে হৃদয়কে বিকশিত ও সৃজনশীল করা। বন্ধুত্ব যেন পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করে। বন্ধুত্বের মাধ্যমে যেন পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক উন্নয়নে সকলে অবদান রাখে। বন্ধুত্ব সকল প্রকার হিংসা বিদ্বেষ, দ্বন্দ্ব, কলুষতা ধ্বংস করে, বন্ধুত্ব শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি লাভে সকলেই প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
