নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরের বিভিন্ন থানা এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সদস্যরা নানারকম অপরাধ কর্মকান্ডে মেতে উঠেছে। তারা কখনও গোয়েন্দা সদস্য ও থানা পুলিশের সোর্স হয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করছে। আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট-বাড়ি, বেকারি, কারখানা, ইজিবাইকসহ পরিবহন ব্যবসায়ী, আদম পাচারকারী, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নিচ্ছে চক্রটি।
সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সঙ্গে তাদের বেজায় সখ্যতা। স্থানীয় পর্যায়ের ভুক্তভোগীরা জানান, অপরাধ যুক্ত করে নানা অবয়বের রঙচঙে পত্রিকা দু’চার সংখ্যা ছাপিয়েই শত শত আইডি কার্ড বিক্রির বাণিজ্যে নেমে পড়ছেন কথিত সম্পাদকরা। সমগ্র গাজীপুর জুড়ে ভূয়া সাংবাদিক, চাঁদাবাজ হিজড়া ও বিতর্কিত নারীদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
নারী সদস্যদের দ্বারা কল্পিত অভিযোগ তুলে থানায় সাধারণ ডাইরি পর্যন্ত করে। পরবর্তীতে সাংবাদিকের উপর কল্পিত হামলার অভিযোগ তুলে মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ সমাবেশের হুমকি দিয়ে চাহিদামাফিক অর্থ হাতিয়ে নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নানা সিন্ডিকেটে চিহ্নিত অপরাধীরা কখনও সাংবাদিক, কখনও মানবাধিকার কর্মি আবার কখনও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে প্রতারণামূলক কর্মকান্ডে দিন দিনই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতারকরা নিজেদের আত্মীয়-স্বজন এমনকি স্ত্রী-শ্যালিকাদের নিয়েও চাঁদাবাজিসহ নানা দুর্বৃত্তপনা চালিয়ে থাকে। সেখানে বিভিন্ন অনলাইন ও ভূইফোড় পত্রিকার আইডি কার্ড ব্যবহার করে পতিতাবৃত্তির অভিযোগেও পুলিশ বেশ কয়েকজন কথিত নারী-সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে। তাদের সহযোগী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে রয়েছে শতাধিক ব্যক্তি। নিজেরেকে তারা ‘সাংবাদিকের সোর্স-রিপোর্টার’ হিসেবে গর্বের সঙ্গে পরিচয় দিয়ে বেড়ায়। অনেকে ভালো-ভালো মিডিয়ার ‘সোর্স’ পদবীর আইডি কার্ড নিজেরাই বানিয়ে নিয়েছেন। নেতৃত্বদানকারী কথিত সাংবাদিকরা আন্ডারগ্রাউন্ডমার্কা পত্র-পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে চষে বেড়ান শহর-বন্দর-গ্রাম জনপদ।
সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সদস্যরা একেকজন ডজন ডজন মামলার আসামি হওয়া সত্তেও থানা পুলিশের একশ্রেণীর কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের গলায় গলায় পীড়িত। তারা কখনও গোয়েন্দা সদস্য ও থানা পুলিশের সোর্স হয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করছে। আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট বাড়ি, বেকারি, কারখানা, ইজিবাইক পরিবহন, কমার্শিয়াল ব্যবসায়ী, আদম পাচারকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নিচ্ছে চক্রটি। পেশাদার অপরাধী হয়েও গন্ডমূর্খ কয়েকজন অলৌকিকভাবে দৈনিক পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন হাতিয়ে নিয়েছে। এরপর আর তাদের পায় কে? আইডি কার্ড বিক্রিসহ নানারকম অপরাধ অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন কথিত সম্পাদক প্রকাশকরা। মাদক বাণিজ্য থেকে শুরু করে দেহবাণিজ্য, চাকরি প্রদানের তদবির থেকে শুরু করে ঠিকাদারী পাইয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে লাখ লাখ হাতিয়ে নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়ান তারা।
