Skip to content

ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে তোলপাড় গাজীপুর ; নিন্দার ঝড় 

শাহান সাহাবুদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি:

গাজীপুরে সাংবাদিকতার পরিচয়ে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি এবং একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। ১ মে দৈনিক বাংলাভূমিতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সারাদেশসহ গাজীপুরে শুরু হয় আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।

বাংলাভূমিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল:

“ভুয়া সাংবাদিকদের ভয়ঙ্কর প্রতারণা: ত্যক্ত-বিরক্ত-বিব্রত গাজীপুর”

“কাশিমপুরে আওয়ামী দোসর মাজহারুলের সিন্ডিকেট সাম্রাজ্য”

“সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা, অপকর্ম অন্তহীন”

“মাজহারুল, তারিকুলদের ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট”

প্রতিবেদন অনুসারে, কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগের ৪নং ওয়ার্ডের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম প্রতিক, তথাকথিত সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম জুয়েল এবং আব্দুল কুদ্দুস গাজীপুর অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার আড়ালে অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল এবং সামাজিকভাবে সম্মানহানি ঘটানোর মতো কাজ করতেন এবং নিজেদের স্বার্থে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও বিভ্রান্ত করতেন। মাজহারুলের বিরুদ্ধে আছে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগও। এই সিন্ডিকেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে গড়ে তোলে একাধিক ভূঁইফোড় নিউজ পোর্টাল।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাভূমির সম্পাদক ও প্রকাশক নজরুল ইসলাম আজহারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বাংলাভূমির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সূত্র জানায়, প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন। গাজীপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ সামসুল হক রিপন বলেন, “গাজীপুর হচ্ছে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, শিল্প অধ্যুষিত একটি জেলা। এখানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস। কিন্তু সম্প্রতি কিছু ভুয়া সাংবাদিক নামে-বেনামে অপসাংবাদিকতা চালাচ্ছে। বাংলাভূমি সাহসিকতার সঙ্গে এই মুখোশ উন্মোচন করেছে। আমি হলুদ সাংবাদিকদের সিন্ডিকেটের অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

গাজীপুর সাংবাদিক পরিষদের সভাপতি মো. মোজাহিদ বলেন, “সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা, চাঁদাবাজি, চরিত্র হনন এখন রুটিন অপরাধে পরিণত হয়েছে। অথচ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না। এই অবস্থায় বাংলাভূমি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। সাহসিকতার জন্য প্রধান সম্পাদক সাঈদুর রহমান রিমন এবং সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজহারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রয়োজনে মাজহারুল-তারিকুল জুয়েল- কুদ্দুস সিন্ডিকেটের অপকর্ম থামাতে ও এদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’

কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. ইব্রাহিম খন্দকার বলেন, “দৈনিক বাংলাভূমি বরাবরই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেছে। ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় যারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে, আমরা তাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা লিটন বলেন, “ভুয়া সাংবাদিকেরা অহেতুক চমক সৃষ্টি করে, সাধারণ ঘটনাকে সাংঘাতিক বানিয়ে তোলে, চাঁদাবাজি করে। এরা যতটা সাংবাদিক নয়, তার চেয়ে সাংবাদিকের ভাবসাব দেখায় বেশি। পেশাটিকে কলুষিত করছে এই শ্রেণির লোকজন। প্রকৃত সাংবাদিকদের উচিত এদের প্রতিরোধ করা।”

টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবাল বলেন, “সাংবাদিক নজরুল ইসলাম আজহার দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও নির্ভীকতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে হঠাৎ করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয় বরং সাংবাদিকতার গঠনমূলক শক্তিকেই আঘাত করছে। সত্যের পক্ষে থাকার কারণে কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হলেও, সেটাই একজন সাংবাদিকের সার্থকতা।”

কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন দেওয়ান বলেন, “নজরুল ইসলাম আজহার একজন পরিচ্ছন্ন সম্পাদক। আমি তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো খুবই নিন্দনীয়। প্রশাসনের উচিত ভুয়া সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।”

গাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আমির আলী বলেন, “দৈনিক বাংলাভূমি সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম আজাহার একজন সৎ ও পরিচ্ছন্ন সাংবাদিক। তাঁকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি ও জানি। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের তীব্র নিন্দা জানাই। হলুদ সাংবাদিকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। ”

এদিকে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কাশিমপুরে একটি তদন্ত টিম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে মূলধারার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক নেতারা একমত, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়া সাংবাদিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হলে প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগ, মূলধারার সাংবাদিকদের ঐক্য এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫