শ্রীপুরে ‘জুলাই পদযাত্রা’য় এনসিপি নেতার ঘোষণা
শাহান সাহাবুদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি:
“আমাদের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। দেশ গঠনের সংগ্রামে আমরা পিছপা হব না।”—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর নিচে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তৃতা দেন।
পদযাত্রার অংশ হিসেবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রণক্ষেত্র’ মাওনাতেই প্রথমবারের মতো এ সমাবেশ করে এনসিপি। নেতারা বলেন, ১৯ জন শহীদের রক্তের ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে।
মাওনা শহীদদের স্মরণ
নাহিদ ইসলাম বলেন, “মাওনায় প্রবেশ মানেই শহীদদের মাটি ছোঁয়া। এখানেই আমাদের ১৯ ভাই শহীদ হয়েছেন। তাঁদের রক্তে আজকের গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তি। আমরা তাঁদের আদর্শে অনুপ্রাণিত, তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি থেকে মুজিববাদীদের বিতাড়িত করব। যারা স্বাধীনতার নামে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে, তাদের বিচার হবেই।”
দেশব্যাপী লড়াইয়ের ঘোষণা
নাহিদ বলেন, “শুধু গোপালগঞ্জ নয়, দেশের ৬৪ জেলায় পদযাত্রা হবে। জনগণের রাষ্ট্র গঠনে এনসিপির লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
তিনি স্পষ্ট করে জানান, “যারা স্বৈরশাসন কায়েম করেছে, তাদের কোনো রেহাই নেই। আমরা কাঠামোগত পরিবর্তনের সংগ্রামে আছি, থাকব।”
মুখ্য সংগঠকের বক্তব্য
পথসভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “জাতিকে বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। আমরা চায় একটি সংবেদনশীল, মানবিক ও যুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র। এনসিপি তারই লড়াই করছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।”

শহীদদের জন্য দোয়া মাহফিল
সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ মাওনা চৌরাস্তায় ১৯ শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন স্থানীয় আলেম সমাজ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) আবু রায়হান মিসবাহ, শ্রীপুর উপজেলা এনসিপির সভাপতি আবদুল মালেক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রানা মাহমুদসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণ।
বিকেলের মূল সমাবেশে আহ্বান
পথসভা শেষে নাহিদ ইসলাম ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মাইক ধরে ঘোষণা দেন, “আজ বিকেলের মূল সমাবেশস্থলে সবাই চলুন। সেখানে আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং এনসিপির ভবিষ্যৎ রূপরেখা উপস্থাপন করব।”
