সিনিয়র রিপোর্টার:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যোগসাজসে রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে ডিলার নির্বাচন করা হয়েছে বলে দাবি বঞ্চিত প্রার্থীদের।
রবিবার ১৭ আগষ্ট দিবাগত রাত ১৮ আগষ্ট সোমবার রাতে বাংলাভূমি-তে “গঙ্গাচড়ায় খাদ্যবান্ধব ডিলার নিয়োগ নিয়ে উত্তেজনা: নেপথ্যে বিএনপিকে পুনর্বাসনের অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরদার করা হয়, সেনাবাহিনীর দু’টি ভ্যান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাহারায় সোমবার ১৮ আগস্ট গংগাচড়ায় উপজেলা হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
বিতর্কিত নিয়োগের চিত্র
উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৩৩ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও ফলাফল ঘোষণায় উঠে আসে ভিন্ন বাস্তবতা— মোট আবেদনকারী: ২০৩ জন
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত: ২১ জন
লটারিতে নির্বাচিত: ৪ জন
কেন্দ্র ফাঁকা: ৮টি
অর্থাৎ ৩৩টির মধ্যে ২৫টি কেন্দ্রে নিয়োগ দেওয়া হলেও ৮টি এখনো শূন্য রয়েছে।
লটারিতে নির্বাচিতরা
১৮ আগস্ট সোমবার দুপুরে চারটি কেন্দ্রে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নির্বাচিত হন—
চৌধুরীহাট কেন্দ্র: মো. আমির আলী
ঠাকুদহ বাজার কেন্দ্র: শাহিন আলম
নোহালী ইউনিয়নের বাগডোগরা কেন্দ্র: মশিউর রহমান (পিতা: সৈয়দ আলী)
বড়াইবাড়ি হাট কেন্দ্র: সামসুল আরেফিন
বঞ্চিতদের অভিযোগ
অনেক আবেদনকারী অভিযোগ করেন, নিয়োগের আগে থেকেই ফল ‘ফাঁস’ হয়ে গিয়েছিল, যা নিয়োগ নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাদের দাবি,> “যে টাকা দিতে পেরেছে, তারাই নির্বাচিত হয়েছে।”
তারা আরও বলেন, নীতিমালা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায়ও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মো. নূরুজ্জামানসহ কয়েকজন আবেদনকারী লটারি অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের দাবি জানান।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা উম্মে কুলসুমা খাতুন-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে অফিসে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে প্রথমে কল কেটে দেন এবং পরে ফোন বন্ধ করে রাখেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন—> “যদি অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে, তারা তদন্ত করে দেখবেন।”
জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সল-এর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা
এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের অস্বচ্ছ নিয়োগ ভবিষ্যতে সামাজিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণ হতে পারে। তারা আরও বলেন ৮টি পদে ডিলার নিয়োগে ফাঁকা রাখার কারন হিসেবে বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পেশী শক্তিগুলোকে কন্ট্রোল করার জন্য রেখেছেন নিয়োগ সংস্লিষ্টরা। সুবিধাজনকভাবে বাকী ৮টি পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ফাঁকা রাখার কারণ।
