থানায় অভিযোগ করতেই ভয়ভীতি, আপোষের চাপ; প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে চার লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
সিনিয়র রিপোর্টার: ঢাকার সাভারে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা! বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিবার কল্যাণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান সালাহউদ্দিন বাবুর বাসায় এক তরুণীকে (২৬) ছয় মাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাড়ির কেয়ারটেকার আরিফের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে সাভার পৌরসভার মজিদপুর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ওই নেতার বাড়িতে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভনে আরিফ তাকে বাবুর বাসায় আটকে রাখে এবং টানা ছয় মাস ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। বারবার বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরে টালবাহানা শুরু করে। গত ৮ আগস্ট বিয়ের জন্য চাপ দিলে আরিফ তাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তিনি সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে ৯ আগস্ট পর্যন্ত ২ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি ও জোরপূর্বক সমঝোতা
১০ আগস্ট হাসপাতাল থেকে ফেরার পর বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন বাবুর অফিস সহকারী জাহিদসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক সমঝোতা করান। এ সময় সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক নাজমুল হুদাও উপস্থিত ছিলেন।
গোপন সূত্রে জানা গেছে— ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নাজমুল হুদা চার লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক মহল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় । এর মাধ্যমে মামলার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এমনকি মামলা করতে চাইলে বিএনপি নেতার লোকজন তাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং জোর করে কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
সাংবাদিকদেরও ম্যানেজ করা হয় টাকার বিনিময়ে
অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা বাবুর অফিস সহকারী জাহিদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা দিয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করা হয়, যেন সংবাদ প্রকাশ না হয়।
কিন্তু ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য > “আমি ছয় মাস ধরে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছি। অভিযোগ করতে গেলে এখন আমাকে উল্টো ভয় দেখানো হচ্ছে, মুখ বন্ধ রাখতে বলা হচ্ছে।”
আরিফের দাপট ও পূর্বের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী জানান, আরিফ নিজেকে সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন বাবুর পিএস পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায়। অতীতেও সে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল, কিন্তু বাবু কখনো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি।
প্রশাসন ও গণমাধ্যমের নীরবতা
অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে কিছু প্রভাবশালী মহল অপরাধীদের পক্ষ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভুয়া আইডি দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন—> “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না করে, তবে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব হবে না।”
জাতির বিবেক কোথায়?
এই ঘটনায় সমাজে প্রশ্ন উঠছে—ভুক্তভোগী থানায় গেলে কেন উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হলো?
সাংবাদিকতার নামে টাকার বিনিময়ে সত্য ধামাচাপা দেওয়াই কি এখন নিয়ম?
ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো মানুষই কি এখন ‘হলুদ সাংবাদিক’?
সালাহউদ্দিন বাবুর বক্তব্য মিলেনি:
এই বিষয়ে জানতে চাইলেও বিএনপি’র সহ-পরিবার কল্যাণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান সালাহউদ্দিন বাবুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য মেলেনি।
নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতা সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। প্রশ্ন একটাই— বিচার চাইবে কোথায় সাধারণ মানুষ?
