Skip to content

গাজীপুরে ১ কেজি ইউরিয়া সার ৩০-৩৫ টাকা, লাইসেন্স ছাড়াই চলছে সার বিক্রি

এম আরমান হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের মাঠে মাঠে বোরোধান আবাদে ব্যস্ত কৃষকরা। শুধু ধান নয়; বেগুন, শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁয়াজ ও মরিচসহ শীতকালীন নানা সবজি চাষেও ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, এই ব্যস্ত সময়ে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছেন না সার। কিনতে হচ্ছে বেশি দামে এবং লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে সার। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা পড়েছে ভোগান্তিতে। সরকারি গুদামে সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও নির্ধারিত দামে সার দিতে গড়িমসি করছেন ডিলাররা। মূলত সিন্ডিকেট করে ডিলাররা সাব-ডিলার ও অবৈধ সার ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর এই সুযোগে সাব-ডিলাররা বা লাইসেন্সবিহীন বিক্রেতারা ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সারে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম আদায় করছেন।

চাল উৎপাদনের সবচেয়ে বড় মৌসুম বোরো। বোরো থেকে আসে দেশের ৬০ শতাংশ চালের যোগান। আর রাসায়নিক সারের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি ব্যবহৃত হয় এই বোরো মৌসুমে। এ ধান চাষে নেমেই কৃষক মেলাতে পারছেন না উৎপাদন খরচের হিসাব। সার-সেচসহ কৃষির সব উপকরণে টানতে হচ্ছে বাড়তি খরচের বোঝা।

এদিকে, সরকার নির্ধারিত সারের মূল্য তালিকা অনুযায়ী ইউরিয়া প্রতি কেজি ২৭ টাকা (৫০ কেজির বস্তা ১৩৫০ টাকা), ডিএপি প্রতি কেজি ২১ টাকা (৫০ কেজির বস্তা ১০৫০ টাকা), এমওপি প্রতি কেজি ২০ টাকা (৫০ কেজির বস্তা ১০০০ টাকা) এবং টিএসপি প্রতি কেজি ২৭ টাকা (৫০ কেজির বস্তা ১৩৫০ টাকা) হওয়ার কথা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। উপজেলা কৃষি অফিস বা দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও এসব বিষয়ে যেনও নিরব ভূমিকা পালন করছেন। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ডিলার, খুচরা ও অবৈধ বিক্রেতারা কৃষকের ওপর এভাবে চেপে বসেছে। কেনার সময় রশিদ চাইলে আমাদের কাছে সার বিক্রি করা হবে না বলে জানান তারা। তারা আরো জানান, ডিলাররা বিভিন্ন দোকানদারের নামে শত শত বস্তার ক্রয় রশিদ দিচ্ছেন। সাধারণ চাষিদের কাছে ক্রয় রশিদ ছাড়া বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। বিসিআইসি ডিলাররা বরাদ্দ পাওয়া সার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পছন্দের কিছু খুচরা বিক্রেতা এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছেন। স্থানীয়দের দাবি, সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে কিছু ডিলার ইচ্ছাকৃতভাবে গুদামে সার আটকে রেখে মুনাফা বাড়াচ্ছেন।

সরেজমিনে জেলা সদর, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ, শ্রীপুর ও কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট-বাজারে দেখা যায়, সরকারি মূল্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং লাইসেন্স ছাড়া অবাধে চলছে সার বাণিজ্য। খুচরা বিক্রেতারা কোথাও নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করছেন না। তথ্য বলছে, ইউরিয়া সারের ১ কেজির প্রকৃত মূল্য ৪৮ টাকা। কৃষককে কিনতে হয় ২৭ টাকা দিয়ে বাকি ২১ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। কিন্তু দিনশেষে কৃষক এই সার কেনেন ১ কেজি ৩০-৩৫ টাকায়। তাহলে ভর্তুকির টাকা যায় কোথায়? সরকার অনুমোদিত এই ডিলারদের অনেকেই সরকারি নির্দেশনা না মানায় দেখা দিয়েছে সারের কৃত্রিম সংকট। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। সংকট তৈরিতে বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত ডিলারদের জড়িত থাকারও অভিযোগ উঠেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, তারা বেশি দামে সার বিক্রি করেন না। তবে মাঝেমধ্যে সারের সরবরাহ পেতে সমস্যা হয়। অথচ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। সরকারি দরে সার পাওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মন্তব্য কৃষকদের। এদিকে, বোরো ধান চাষে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন হয়, এর প্রায় ৬০ শতাংশ প্রয়োগ হয় ডিসেম্বর থেকে মার্চে। সারের এই বাড়তি চাহিদাকে মওকা হিসেবে নেয় কিছু অসৎ ব্যবসায়ীরা বলে দাবি তাদের।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী, বিসিআইসি ডিলাররা সরকারি বাফার গুদাম থেকে সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া কিনে উপজেলার নির্ধারিত ইউনিয়নে তাদের নিজস্ব গুদামে নিয়ে রাখবেন। এরপর তারা সরাসরি ও সরকার নির্ধারিত খুচরা সার ব্যবসায়ীর মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকার কৃষকদের কাছে ওই সার বিক্রি করবেন। বিসিআইসি ও নির্ধারিত খুচরা সার ব্যবসায়ীরা ছাড়া কোনো ব্যবসায়ী সার বিক্রি করতে পারবেন না। অথচ মাঠের চিত্র আলাদা। জেলা ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি সরকার নির্ধারিত কৃষক পর্যায়ে সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্যের মধ্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রয় নিশ্চিত করবে। সরকারি দামে সার বিক্রয়ের বিষয়টি তদারকি করবে। অথচ এসব শুধু কাগজে কলমে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা একেবারে নেই বললেই চলে।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সারের দাম এখন চড়া। এর ওপর সার নিতে গেলে একসঙ্গে সার দিচ্ছে না। অল্প অল্প করে দিচ্ছে। তাই এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি বেড়ে যাবে। যাদের এসব দেখা দরকার তারাই রয়েছেন চুপ করে।

সারের অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ, লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রি ও সার বিক্রিতে অনিয়ম নিয়ে কথা হলে গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহরিয়ার নজির এ প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে যারা সার বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রতিটি ব্লকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা ইতোমধ্যেই দেয়া হয়েছে। কোনো ডিলার যদি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার ক্রয়-বিক্রয় করেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর নিবন্ধন বাতিলসহ তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেইসাথে যারা অবৈধভাবে সার বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধেও আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫