Skip to content

রাজৈরে ইউএনওর নাম ভাঙিয়ে ঘরের প্রলোভন, অর্থ আদায় ও শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ

শরীফুল বেপারী
রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ইউএনওর নাম ব্যবহার করে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ আদায়, এক নারীকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা, সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড় গ্রামের বাসিন্দা বিথী আক্তার (৩০)।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি গাড়িচালক আরিফ কাজী দীর্ঘদিন ধরে ইউএনওর নাম ব্যবহার করে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিলেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে পাঁচজনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও কাউকে ঘর দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কুমার নদীতে বাঁধ নির্মাণের কথা বলে ড্রেজার মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকাও আরিফ কাজীর কাছে দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই অর্থের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। এছাড়া অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী বিথী আক্তারের অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়া এবং পরে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে আরিফ কাজীর বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় এবং গোপনে সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে টাকা ফেরত দাবি করলে কিংবা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার চেষ্টা করলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, কথিত এসব অনিয়ম ও অর্থ লেনদেন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবগত ছিলেন কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সরকারি গাড়িচালক আরিফ কাজী এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে অভিযোগকারী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অর্থ আত্মসাৎ, ব্ল্যাকমেইল ও জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫