জাকারিয়া হোসাইন
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহকে কেন্দ্র করে চরম হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মুহাইমিনুলের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং অতিরিক্ত ধান কেটে রাখার অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী মাইকিং করে ধান সংগ্রহের ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রকৃত কৃষকরা গুদামে গিয়ে ফিরে আসছেন। কৃষকদের অভিযোগ, তাদের ‘কৃষক কার্ড’ জমা রেখে দিনের পর দিন ঘুরানো হচ্ছে। অথচ একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অন্য উৎস থেকে ধান এনে গুদাম ভর্তি করা হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বস্তাসহ ৪১ কেজি ২০০ গ্রাম ধান নেওয়ার নিয়ম থাকলেও কৃষকদের কাছ থেকে ৪২ কেজি ২০০ গ্রাম করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ৫০ মণ ধানের বিপরীতে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ মণ ধান উৎকোচ (ঘুষ) হিসেবে দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি রাজস্ব বাবদ কৃষকদের কাছ থেকে অর্থ কেটে রাখা হলেও তার বিপরীতে কোনো বৈধ ভাউচার বা রসিদ প্রদান করা হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী কৃষক ঠান্ডা ফকির বলেন, আমি ধান নিয়ে গেলে প্রতি ৫০ মণ ধানের বিপরীতে ২ মণ অতিরিক্ত ধান দাবি করা হয়। রাজি না হওয়ায় গুদাম কর্মকর্তা আমাকে গালিগালাজ করে অফিস থেকে বের করে দেন। আমি এর বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।
কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় আমার ধান নেওয়া হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি।
এছাড়াও হিজলা গ্রামের কৃষক মো. ইসহাক ও আড়–য়াবর্ণী গ্রামের কৃষক মো. শরিফুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে না পারলে তারা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়বেন। পুরো খাদ্য গুদাম চত্বরটি বর্তমানে একটি সিন্ডিকেটের পকেটে চলে গেছে।
চলতি মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা ও সরকারি দর বিবরণ/ পরিমাণ/মূল্য ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১,৩৬৩ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২,১৭৯ মেট্রিক টন সরকার নির্ধারিত ধানের মূল্য ৩৬ টাকা (প্রতি কেজি) সরকার নির্ধারিত চালের মূল্য ৫০ টাকা (প্রতি কেজি) ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থান মুহাইমিনুল (ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা): তার বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম ও ঘুষের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কাওছার আহমেদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। অফিসে ফিরে অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, তার দপ্তরে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানে এমন অনিয়মের ফলে এলাকার প্রকৃত আমন/বোরো চাষীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। কৃষকদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা হোক।
