স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার আলেখারচরে অবস্থিত ডা. যুবেদা হান্নান প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা অন্ধকল্যাণ চক্ষু হাসপাতালের প্যারামেডিক আ. ছালাম খায়েরকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী এবং হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় যুবলীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি বর্তমানে বিএনপির প্রভাবশালী মহলে অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আ. ছালাম খায়ের কুমিল্লা সদর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন। তিনি চানপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে বর্তমানে বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দলীয় পদ পাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে।
কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ছালাম খায়েরের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের ২, ৩ ও ৪ আগস্ট কুমিল্লা নগরীর পুলিশ লাইনস, আদালত চত্বর ও রাজগঞ্জ ট্রাফিক মোড় এলাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কর্মসূচিতে ছালাম খায়েরকে দেখা গেছে বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আ. হ. ম. তাইফুর আলমকেও একই ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত শান্তি মিছিলে উপস্থিত থাকলেও বর্তমানে তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির কার্যক্রম, কমিটি গঠন এবং হাসপাতাল পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তদন্তও হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক তদন্ত চলাকালে তদন্ত কর্মকর্তার সামনেই অ্যাডভোকেট তাইফুর আলম শান্তি মিছিলে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও নিজেদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেছে অভিযোগকারীরা। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আ. ছালাম খায়েরের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার পাঁচথুবী ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া এলাকায়। বর্তমানে তিনি চানপুর এলাকায় বসবাস করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি এখনো যুবলীগের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি বা দল থেকেও তাঁর পদ বাতিলের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আ. ছালাম খায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভিযোগ থাকতেই পারে। তবে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির কর্তৃপক্ষ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
