Skip to content

মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, জুলাইতেই আক্রান্ত ৬ শতাধিক

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জে জুলাই মাসের শুরু থেকেই ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ডেঙ্গুর পাশাপাশি মৌসুমি ভাইরাসজনিত জ্বরেও হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র সংকট।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার বারান্দাসহ নারী, পুরুষ ও শিশু ওয়ার্ডে রোগীর উপচেপড়া ভিড়। অধিকাংশ রোগী ডেঙ্গু ও মৌসুমি ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।

হাসপাতাল ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ৬০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া জেলার পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ৪০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মৌসুমি ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় আড়াই হাজারের বেশি রোগী।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত শুধু মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের পাঁচটি ডেঙ্গু আইসোলেশন কক্ষে ৩৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৫ জন, মার্চে ৪ জন, এপ্রিলে ৩৯ জন, মে মাসে ৩৫ জন এবং জুনে ১৫১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গু রোগীদের শরীরে দ্রুত প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় সুস্থ হতে সময় বেশি লাগছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা পাঁচ বছর বয়সী ডেঙ্গু আক্রান্ত তাসনিম আক্তারের মা সুমি বেগম অভিযোগ করেন, মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি দ্রুত মশক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্যালাইন, ওষুধ ও মশারির সংকট রয়েছে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. মো. সাইদুর রহমান হিমেল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না এবং পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।

অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান দাবি করেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক আইসোলেশন কক্ষ, প্রয়োজনীয় স্যালাইন, মশারি ও ওষুধের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় সার্বিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হচ্ছে।

এদিকে হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেটি এখনও কার্যকর হয়নি। ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব জানান, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত লিফলেট বিতরণ, মশকনিধন স্প্রে এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন মিরকাদিম পৌর প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও ব্যক্তিগত সতর্কতাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫