Skip to content

গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে সাড়ে ১১ লাখ অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রমাণিত

বিশেষ প্রতিনিধি
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের ইসিজি পরীক্ষার (ইউজার ফি) সরকারি বাবদ আদায়কৃত সাড়ে ১১ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগৃহীত এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম গজারিয়া এলাকার মোহাম্মদ আলী তালুকদারের পুত্র।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে পাঠানো এক পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালের রাজস্ব ও ইউজার ফি খাতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায়, ২০১৯—২০ অর্থবছর থেকে ২০২০—২১ অর্থবছরের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ইসিজি পরীক্ষা (ইউজার ফি) থেকে আদায়কৃত মোট ১১ লাখ ৪৬ হাজার ১৬০ টাকা হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম গ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী ওই অর্থ চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

বিষয়টি নিয়ে কৈফিয়ত তলব করা হলে সাইফুল ইসলাম অভিযোগ স্বীকার করেন এবং অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে সম্মত হন। পরে তিনি সোনালী ব্যাংকের কোর্ট বিল্ডিং শাখার মাধ্যমে ১১ লাখ ৪৬ হাজার ১৬০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন।

তবে তদন্তে শুধু ইসিজি ফি নয়, আরও অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। অধিকতর তদন্তে দেখা যায়, কোভিড—১৯ মহামারির সময় আরটিপিসিআর ল্যাবের ইউজার ফি বাবদ ৩৪ হাজার টাকা এবং বহির্বিভাগের টিকিট ও ল্যাবরেটরি সেবার ৬ হাজার ২৭০ টাকাও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া ইউজার ফি সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা সরকারি বিধি—বিধানের পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সরকারী অর্থ জমা না দেওয়া বিষয়ে হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনাকালীন সময়ে বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে ভুলবশত জমা দিতে পারিনি। পরবর্তীতে জানা মাত্র সরকারী কোষাগারে জমা দেই।

হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, একটি অনিয়ম সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হিসাবরক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অধিকতর তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। তাই সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, সিসিইউ ও আইসিইউসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রতিদিন শত শত রোগীর ইসিজি পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার বিপরীতে নির্ধারিত সরকারি ইউজার ফি আদায় করে ওয়ার্ড ইনচার্জরা হিসাব শাখায় জমা দেন। পরে সেই অর্থ সরকারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম তা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তিনি দায় স্বীকার করে অর্থ জমা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি পাস সাইফুল ইসলাম ১৯৯৭ সালের ২৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। ২০০৩ সালে পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহকারী কাম টাইপিস্ট হন। ২০০৭ সালে ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হন। পরে কাজীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। সেখানে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ৩ জুন তিনি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একই পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে হিসাবরক্ষক পদে দায়িত্ব পান এবং বর্তমানে ওই পদেই কর্মরত রয়েছেন।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, নৈশ প্রহরী থেকে হিসাবরক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই। কারণ নৈশ প্রহরী চতুর্থ শ্রেণির পদ এবং হিসাবরক্ষক দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ পদ। তবে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করে বিভাগীয় বা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে হিসাবরক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত নৈশ প্রহরী থেকে পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহায়ক (এমএলএসএস), দপ্তরি বা রেকর্ড কিপারের মতো পদে উন্নীত হওয়া সম্ভব।

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, নৈশপ্রহরী পদ থেকে অফিস সহকারী কাম—টাইপিস্ট পদে পদোন্নতি বোর্ড নিয়োগ দিয়েছে। এতে আমার দোষ কোথায়?

হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারী অর্থ আত্মসাত করে তিনি গুরুতর অপরাধ করেছেন। ওনার বিরুদ্ধে যখন অর্থ আত্নসাতের বিষয় এসেছে তখন দেখলাম আমাদের অন্ত বিভাগের ভর্তি রোগীদের যে ইসিজি করা হয় সেই টাকা বিভিন্ন বিভাগের ইনচার্জরা সাইফুলের কাছে জমা দেয়। পরে সেই টাকা সাইফুল সরকারি কোষাগারে জামা দেননি। তদন্তে মাধ্যমে দেখা যায়, তিনি প্রায় তিন বছর ধরে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা জামা দেন নি। পরে আমরা ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জামা দেওয়ার ব্যবস্থা করি এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে দপ্তরে পত্র পাঠাই।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর জালাল উদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫