স্টাফ রিপোর্টার ॥
গাজীপুর সদর উপজেলার কেশরিতায় লাক্সারি ফ্যান কারখানায় নিহত পরিবারের সদস্যদের হাতে ১লাখ টাকা করে অনুদানের চেক প্রদান করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে গাজীপুর প্রেসক্লাব চত্বরে কারখানার হেড অব সেলস অফিসার মো: শফিকুর রহমান নিহত ১০ শ্রমিককের পরিবারের সদস্যদের হাতে ওই চেক তুলে দেন।
জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ফ্যান কারখানার অগ্নিকান্ডে নিহতরা হলেন গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মার্তা গ্রামের কামাল হোসেনের পুত্র রাশেদ (৩৪), একই গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র শামীম (২২), গাজীপুর মহানগরীর নোয়াগাঁও এলাকার লাল মিয়ার পুত্র পারভেজ (১৯), ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানার রাঘবপুর গ্রামের সেলিমের পুত্র তরিকুল ইসলাম (১৯), রংপুর জেলার হারাগাছ থানার কাচু বকুলতলা গ্রামের তাজুল ইসলামের পুত্র ফরিদুল (২৩), নরসিংদী জেলার বেলাব থানার চর কাশিনগর গ্রামের মাজু মিয়ার পুত্র সজল (২০), ব্রাক্ষনবাড়ীয়া জেলার বাঞ্জারামপুর থানার মোরশেদ মিয়ার পুত্র ইউসুফ (৩০), দিনাজপুর জেলার কাহারুল থানার বারপাইটা গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র লিমন(১৯), গাজীপুর সদর উপজেলার কেশরিতা গ্রামের বীরবল চন্দ্র দাসের পুত্র উত্তম চন্দ্র দাস (১৮), একই উপজেলার কালনী গ্রামের সাইফুল ইসলামের পুত্র ফয়সাল খান (২০)।
ইতিপূর্বে লাশ দাফনের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০হাজার টাকা এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে আরো ২৫ হাজার টাকা করে প্রদান করেছে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য সার্বিক সহায়তাদানেরও প্রতিশ্রুতি দেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।
কারখানার হেড অব সেলস মো: শফিকুর রহমান জানান, প্রতিমাসে নিহতের প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা ও উৎসব বোনাস প্রদান করা হবে। তারপরও তাদের পরিবারের যোগ্য ও কর্মক্ষম প্রতিনিধিকে চাকুরি দেয়া হবে এবং সন্তানদের লেখা-পড়ার খরচও দেয়া হবে।
তবে তিনি কারখানার অনুমোদন ও অনুমতির সকল কাগজপত্র থাকার কথা দাবি করে জানান, ঘটনার পর পর তাদের মানসিক অবস্থা ঠিক না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তা কর্তৃপক্ষকে দেখাতে পারেননি।
নিহত শ্রমিক রাশেদের বাবা কামাল হোসেন কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, তিনি অগ্নিকান্ডে হতাহতের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।
নিহত তরিকুলের বাবা মো. সেলিম জানান, তিনি অন্যের জমি বর্গায় কৃষি কাজ করেন। তিনি ছাড়া তার একমাত্র ছেলে সংসারের উপার্জনক্ষম ছিল। তার মৃত্যুতে এক বস্তা টাকা দিলেও তার ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব হবে না।
নিহত ইউসুফ আলীর স্ত্রী হাজেরা জানান, হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। যিনি গেছেন তিনিতো গেছেন। তবে তিনি তাকে ও তার শিশু সন্তানের ভরন-পোষণের দাবি জানিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে।
লাক্সারি ফ্যান কারখানায় নিহত ১০ পরিবারের মধ্যে ১ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান
আপডেট :December 22, 2019
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
