Skip to content

নৌকাই ভরসা, হস্তান্তরের সময় ৫ বছর পেড়িয়ে গেলেও কাজই শেষ হয়নি সেতুর

দিপংকর রায় দিনাজপুর ব্যুরো

দিনাজপুর সদর ও বিরল উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া পূর্নভবা নদীতে দুলালি গঞ্জের ঘাট এলাকায় নির্মানাধীন ২৫০ মিটারের সেতুটি কাজ সম্পন্ন করে ২০২০ সালে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও। আরো ৫ বছর পার হয়ে গেলেও কাজই শেষ হয়নি সেতু সহ সংযোগ সড়কের। সেতুটি
বিরল উপজেলার ১১ নং পলাশ বাড়ী ইউনিয়নের চকের হাট এলাকা ও সদর উপজেলার ঘুঘু ডাঙ্গার সাথে দুই উপজেলার সংযোগ হবে এই সেতু দিয়ে। প্রায় ৭ বছর ধরে খুড়িয়ে চলছে সেতুর কাজ এখন তাই ভরসা এক মাত্র নৌকাই।

সেতুটি নির্মান সম্পন্ন হলে চলাচলে ও কৃষিতে কষ্ট লাঘব হবে দুই পাড়ের অন্তত ২০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের। বিশেষ করে চকের হাট, বৈদ্যনাথ পুর, পলাশ বাড়ী, ধুলাতৈড়, গোয়াল বাড়ি, কামদেব পুর, কালিয়াগঞ্জ সহ এই অঞ্চলের মানুষের কৃষি পন্য পরিবহন সহ বিশেষ প্রয়োজনে জেলা শহরের যাতায়াত করতে কমে যাবে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিমি পথ।

দুলালি গঞ্জের ঘাটে সেতুর কাজে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া না গেলেও সংযোগ সড়ক ছাড়াই দাঁড়িয়ে অসমাপ্ত সেতু। অসমাপ্ত সেতুর নিচে পাশ দিয়ে নৌকায় পারাপার হচ্ছে মানুষ জন সহ যবতীয় জিনিসপত্র। ঘাটে একটিই মাত্র নৌকা আর এই নৌকাতেই যাতায়াত দুই পাড়ের মানুষজনের। নৌকায় পার হওয়া যাত্রীদের অনেকের সাথে কথা বললে তারা অসহায়ত্ব ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন। এ যুগেও আমাদের নৌকায় ভরসা করতে হয়,দেখা যাক আর কত দিন লাগে। আমাদের বলার আর কি আছে? এই কাজ হয় আবার কিছু দিন পর বন্ধ থাকে। বর্ষায় তো বারো অবস্থা, যত প্রয়োজনই হোক না কেন সকাল ৮ টার আগে নৌকা পাওয়ার সুযোগ নেই। আবার মাঝি অসুস্থ হয়ে গেলে তো কথাই নাই। সেই ১৮ সালে কাজ শুরু হয়েছে চলছে তো চলছেই। কয়েক জন কৃষক জানালেন এপার থেকে ওপারে চাষবাদে অনেক কষ্ট সার বীজ থেকে এপার থেকে ওপারে নিতে গুনতে হয় বাড়তি খরচ। ২০ বছরের ঘাটে নৌকা চালানো একমাত্র নৌকার মাঝিও অসমাপ্ত সেতু নিয়ে বেশ বিরক্তি প্রকাশ করলেন।

খবর নিয়ে জানা যায় সেতুটি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সিআইবিপি প্রকল্পের আওতায় ২৬ কোটি ১২ লক্ষ ১০ হাজার ৬৩৯ টাকা ব্যয়ে। ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭.৩২ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তমা কনক্ট্রাকশন এন্ড কোং লিমিটেড কাজ শুরু করে। সেতুটির দুই পাড়ে নেই সংযোগ সড়কের ২৮০ ও ৩০০ মিটার অধিগ্রহন প্রক্রিয়া জেলার রাজস্ব শাখার অধীনে।

অসমাপ্ত সেতুর ব্যাপারে তমা কনক্ট্রাশনের সাব কনস্ট্রাকশনের মাহাবুব আলমের যোগাযোগ করলে তিনি দূ:খ প্রকাশ করে বলেন। সরকারের বেধে দেওয়া ১৮ মাসের মধ্যে এমন সেতু নির্মান সম্ভব নয়। এর পর করোনা ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়া সহ নানা কারনে সেতুর কাজ বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে আবার অফিসের আদেশে থেকে দেড় বছর কাজ বন্ধ রাখতে হয়। বন্ধ রাখার আদেশের এমন কোন কাগজ দেখাতে বলা হলে তিনি মৌখিক আদেশের কথা বলে তা এড়িয়ে। আগামী জুনের মধ্যেই তিনি সেতুর কাজ সম্পন্ন করবেন বলে জানান।

সেতুর বিষয়ে বিরল উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন অন্য উপজেলার উদাহরন টেনে টিকাদাররা কাজ রেখে পালিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় এই সেতুর কাজ ধীরে হলেও চলছে। সেতুর কাজ বন্ধে কোন আদেশ দেওয়া হয়নি একথাও জানান। স্থানীয় মানুষ জনের ক্ষোভ প্রকাশের ব্যপারে তিনি দ্বিমত প্রকাশ করে ক্ষোভ প্রকাশ ব্যক্তিদের অফিসে ধরে নিয়ে যেতে বলেন। দুই পাড়ে অধিগ্রহনের বিষয়ে জানতে চাইলে অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ বাকিটা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্বতে জেনে নিতে বলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো জানে আলম জানান অধিগ্রহণ শেষ তথ্য সঠিক নয় জানিয়ে বলেন। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান প্রাথমিক পর্যায়ে আছে বলা যেতে পারে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫