দোহার—নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ
ঢাকার দোহার উপজেলায় মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস ও অবাধ পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে পদ্মা নদীর শাখা জয়পাড়া খালের কচুরিপানা পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার সকালে জয়পাড়া বাজারের বড় ব্রিজের কাছ থেকে জয়পাড়া খালের কচুরিপানা পরিস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জয়পাড়া খালের অধিকাংশ অংশই কচুরিপানায় আচ্ছাদিত। একসময় এই খালকে ঘিরেই জয়পাড়া হাট—বাজার ছিল জমজমাট। মালামাল পরিহবনের একমাত্র পথই ছিল এ খালটি। কালের বিবর্তনে খাল ভরাট, দখল ও কচুরিপানায় খালের জৌলুস হারিয়ে গিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। যে কারণে বাজরের ব্যবসায়ীরা এখন মালামাল আনা—নেয়ায় সড়ক পরিবহনকেই বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে কচুরিপানায় ভরাট হওয়ায় খালটি আর ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ জানান, উপজেলার জয়পাড়া খালের বেহাল অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঢাকা—১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার মো. নজরুল ইসলামের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি খালটির কচুরিপানা অপসারণে দ্রুত উদ্যোগ নিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।
তারা আরও জানান, কচুরিপানা ও বাজার এলাকার বর্জ্য জমে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, মশার উপদ্রব বেড়েছে এবং শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
পৌর আমীর মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, খালটি উন্মুুক্ত থাকলেও কচুরিপানার কারণে কার্যত এটি মৃত প্রায়। এতে শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের অর্থনৈতিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এসব বিবেচনা করে আমরা এই সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জামায়াত—শিবিরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জয়পাড়া খালের কচুরিপানার ভোগান্তিতে ছিলাম। মশার উপদ্রবে সন্ধ্যার পর দোকানে বসে থাকাও যেত না। আজ জামায়াতের এই কার্যক্রমে আমরা উপকৃত হবো এবং তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
খাল থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নেন— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা সহকারী সেক্রেটারি এবিএম কামাল হোসেন, দোহার থানা নায়েব আমীর মাওলানা দলিলুর রহমান, দোহার থানার সেক্রেটারি নূরে আলম ঝিলু, পৌর আমীর মো. সাখাওয়াত হোসেন, কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হাফেজ আব্দুল ওয়াহাব দোহারী, দোহার উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ওমর ফারুক প্রমুখ।
