ফাহিম এ সরকার
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
উত্তরবঙ্গ থেকে সিলেট অঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগের জন্য নির্মিত বহুল প্রতিক্ষিত নতুন রুটটি এখন গাজীপুর জেলা শহরের সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রুটের সিংহভাগ কাজ শেষ হলেও, মূল সংযোগস্থলের (মাথার অংশ) নির্মাণ কাজ বাকি থাকায় উত্তরবঙ্গ ও সিলেটগামী সব ধরনের যানবাহন সরাসরি গাজীপুর মূল শহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে। এর ফলে গাজীপুর মহানগরীতে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী চালকদের দাবি, অবিলম্বে এই রুটটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে একটি কার্যকরী বাইপাস সংযোগ চালু করা হোক।
শহরের ভেতর দিয়ে দূরপাল্লার গাড়ি, স্থবির গাজীপুর:
সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গ থেকে সিলেটগামী এবং সিলেট থেকে উত্তরবঙ্গগামী শত শত যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি প্রতিদিন গাজীপুর শহরের প্রধান সড়কগুলো ব্যবহার করছে। মূল রুটটির সংযোগস্থলটি সম্পন্ন না হওয়ায় এই বিশাল সংখ্যক দূরপাল্লার গাড়িগুলোকে শহরের ভেতরে প্রবেশ করতে হচ্ছে। গাজীপুরের চৌরাস্তা, শিববাড়ী মোড়সহ আশেপাশের প্রধান সড়কগুলো এমনিতেই স্থানীয় যানবাহনের চাপে ব্যস্ত থাকে, তার ওপর এই নতুন রুটের ভারী যানবাহন যুক্ত হওয়ায় পুরো শহর প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
জনগণের সীমাহীন ভোগান্তি:
গাজীপুরের স্থানীয় বাসিন্দা, চাকুরিজীবী এবং স্কুল—কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—সবখানেই এখন যানবাহনের জটলা। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উত্তরবঙ্গ ও সিলেটের যোগাযোগের জন্য ভালো রাস্তা হয়েছে ঠিক আছে , কিন্তু আমাদের গাজীপুরবাসীর জন্য এটা অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের ভেতরের রাস্তাগুলো দূরপাল্লার বড় বড় ট্রাক—বাসের লোড নেওয়ার জন্য তৈরি হয়নি। প্রতিদিন যে কী পরিমাণ যানজট আর ধুলাবালির ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
অর্থনৈতিক ক্ষতি ও দুর্ঘটনা ঝুঁকি:
শুধু সময়ের অপচয়ই নয়, এই যানজটের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার জ্বালানি অপচয় হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। তা ছাড়া, শহরের সরু রাস্তায় দূরপাল্লার দ্রুতগামী ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ছোট—বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও দ্রুত সমাধানের দাবি:
ভুক্তভোগী জনগণ এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো রুটের বাকি থাকা মূল সংযোগ অংশটির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ করা। একটি পূর্ণাঙ্গ বাইপাস ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত গাজীপুর শহরকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, অবিলম্বে এই মাথার অংশের কাজ শেষ করে উত্তরবঙ্গ টু সিলেট রুটটি সম্পূর্ণ আলাদাভাবে চালু করা হোক, যেন কোনো দূরপাল্লার গাড়িকে গাজীপুর শহরের ভেতরে ঢুকতে না হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গাজীপুরবাসীর এই দীর্ঘদিনের যানজট ও ভোগান্তি লাঘব করবেন—এমনটাই এখন পুরো জেলাবাসীর প্রত্যাশা।
