Skip to content

কোথায় গেল ভেসে যাওয়া বাকি মৃতদেহগুলো?

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মেঘনা নদীর উপকূলে কমপক্ষে ২০টি মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে এমন খবর গণমাধ্যমে ছবিসহ ছাপা হলেও এ পর্যন্ত মাত্র দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। বাকি মৃতদেহগুলো উদ্ধারে পুলিশের অনীহার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি উদ্ধারের পরিবর্তে নদীতেই মৃতদেহ গায়েব করে দেয়ার খবরও দিয়েছেন অনেকে। স্থানীয়রা নিশ্চিত তথ্য দিলেও এ ব্যাপারে প্রশাসনের লুকোচুরি নানা সন্দেহের উদ্রেক করছে। এমনকি এসব মৃতদেহের সন্ধান দাতাদেরকেও বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

গত শনিবার থেকে বিভিন্ন সময়ে ২০টির মতো লাশ স্থানীয়দের চোখে পড়লেও সোমবার সকালে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় আরো একটি লাশ ভেসে যায়। নদীতে এখনো অনেক ভাসমান লাশ থাকতে পারে পুলিশের কাছে এমন তথ্য থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। লাশ নিয়ে চলছে লুকোচুরি।

এদিকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ১৭ মার্চ হাতিয়া থানার এসআই টিপু কুমার রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় একাধিক জেলে বাংলামেইলকে জানান, নদীতে কোনো লাশ দেখতে পেলে সেগুলো ফুটো করে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য পুলিশ তাদের নির্দেশ দিয়েছে। লাশ পাওয়ার খবর নিয়ে থানায় গেলে মামলায় ফেঁসে দেয়ার হুমকি দিয়েছে পুলিশ।

তারা আরো জানান, লাশ গায়েব করার জন্য পুলিশ রাতেই নদীতে অভিযানে নামে। ভাসমান লাশ দেখতে পেলে তাদের পেট ফুটো করে পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়।

উপজেলার চর আমান উল্যাহ গ্রামের জেলে জগদিশ জলদাস বাংলামেইলকে জানান, গত সোমবার রাতে তার মাছ ধরা জালে একটি লাশ আটকা পড়ে। তিনি মামলার ভয়ে সে লাশের সন্ধান জানাননি পুলিশকে। আরো একাধিক লাশ জেলেদের জালে আটকা পড়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই ভাসমান লাশের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন। প্রথম অবস্থায় কেউ বলেছেন এগুলো নিখোঁজ মালয়েশীয় বিমানের যাত্রী হতে পারে। পরে লাশগুলোর অবস্থান ও সার্বিক অবস্থা দেখে তাদের সে ধারণা পাল্টে যায়। এখন কেউ কেউ বলছেন, এগুলো সাগরের ডাকাতদের লাশ।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ ও গুমের ঘটনা বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে গত ২ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়েছে। এদের অনেককেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার এদের কারো কারো লাশ মিলছে নদী, খাল-বিল ও ডোবা-নালায়।

হাতিয়ার মেঘনায় একযোগে এতোগুলো লাশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে আলোচনা। বিরোধী জোটের কেউ কেউ বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সারা দেশে থেকে তাদের নেতাকর্মীদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে গুম করেছে। তাদের হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়ে থাকতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাশের দুর্গন্ধে হাতিয়া উপকূলের আশা এখন ভারী হয়ে উঠেছে। ওই এলাকার মানুষ এখন নদীর মাছ খাচ্ছেন না। কারণ মাছের পেটে ভাসমান মানুষগুলোর পচা মাংস থাকতে পারে। এনিয়ে স্থানীয় জেলেরাও পড়েছেন বিপদে। তাদের মাছ আর বিক্রি হচ্ছে না।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. ফজলে রাব্বী বাংলামেইলকে বলেন, ‘নদীতে ভাসমান লাশের ব্যাপারে আমরা খুব তৎপর। লাশ উদ্ধারে চারদিকে লোক লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের অনীহার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশ তৎপর না হলে লাশগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হতো না।’ বাংলামেইল২৪ডটকম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫