বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ কম সময়ে আরামে যাতায়াত করা যাবে ডেমু ট্রেনে। স্বপ্নের এই ঘোর ইতিমধ্যেই কেটে গেছে নগরবাসীর। লোকসান গুনতে গুনতে এই ট্রেন সরকারের গলার ফাঁসে পরিণত হয়েছে। চীন থেকে ৬৮৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় আনা হয়েছিল ২০ সেট ডেমু ট্রেন। ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’র কারণে অধিকাংশ ডেমু এখন অলস সময় পার করছে। তাই সরকারকে টানতে হচ্ছে লোকসানের বোঝা। চীন থেকে আমদানি করা এসব ডেমুর ১৬ সেট চালানো হলেও লোকসানের ভয়ে বাকি ৪ সেট এখনও রাস্তায় নামায়নি রেল কর্তৃর্পক্ষ। এভাবে লোকসান গুনতে হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।
এদিকে অপরিকল্পিতভাবে অপ্রয়োজনীয় রুটে ডেমু চালু করায় প্রতিনিয়ত কমছে ট্রেনের যাত্রী। গত এক বছরে কয়েক দফায় ১২ সেট ডেমু মেরামত করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রচুর অর্থ। অথচ প্রকল্প পরিচালক (বর্তমানে ওএসডি) সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ধারণা দিতে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেছিলেনথ ‘ডেমু চালু করলে বছরে একশ’ কোটি টাকা মুনাফা হবে।’
গত এক বছরে ১৬ সেট ডেমুর জ্বালানি ও মেকানিক্যাল খাতে খরচ হয় প্রায় ৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বাইরে লোকোমাস্টারসহ অন্যান্য লোকবলের মাসিক বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ ৮৪ লাখ টাকা এবং মেরামত বাবদ ব্যয় হয় আরও ২ কোটি টাকা। সব মিলে এক বছরে ডেমু পরিচালনায় রেলের ব্যয় হয় ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আর এক বছরে ডেমু থেকে আয় হয় মাত্র ২ কোটি টাকা।
রেলওয়ের সূত্রমতে, ২০ সেট ডেমু কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৫০ কোটি টাকা। তবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প অনুমোদনে আপত্তি জানায় পরিকল্পনা কমিশন।
গত ২৪ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ২ সেট ডেমু চালু করে রেলওয়ে। মে মাসে চট্টগ্রামের দুই রুটে আরও তিন সেটসহ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে পর্যায়ক্রমে আরও ৮ রুটে ১১ সেট ডেমু চালানো শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. তাফাজ্জল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেলওয়ের মূল লক্ষ্য সেবা দেওয়া। এতে ডেমু থেকে লোকসান হতে পারে। তবে এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট হিসাব ও সুনির্দিষ্ট তথ্য তার জানা নেই।রেলওয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ডেমুর লোকসানের অর্থে রেলওয়ের অন্তত ১০টি ইঞ্জিন ও ১শ’ বগি কেনা এবং এসব ট্রেনের সাহায্যে ২০ সেট ডেমুর দ্বিগুণ যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব। বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম, ডেস্ক
