বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
যশোরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফের যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া এ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন।
যশোর পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র (বিজিবি) ২৬ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ অভিযান শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, যশোর শহরের বারান্দীপাড়া লিচুতলা এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে হাফিজুর রহমান নামে এক জুটমিল শ্রমিককে। দিনদুপুরে গুলি করে মানুষ মেরে ফেলার ঘটনায় জনমনে যাতে উদ্বেগ সৃষ্টি না হয় সে জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয় পুলিশ প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির সঙ্গে। তার পরামর্শ অনুযায়ী পরে তিনি বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং যশোর জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে আলাপ করেন। বিকেলে সিদ্ধান্ত হয়, রাতে যশোরে নামে যৌথ বাহিনী।
যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান যৌথ অভিযান শুরুর কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজ, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে এ অভিযান শুরু হয়েছে। যাদের কারণে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে, যৌথবাহিনী তাদের ধরতে সর্বাত্মক অভিযান চালাবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।’
বিজিবি ২৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিজিবি সদস্যরা যৌথ অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। আমার বাহিনীর তিন প্লাটুন সদস্য অভিযানে নামানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
এক প্রশ্নের তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গুলি করে মানুষ খুন করার পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, বর্তমান পুলিশ সুপার ২৫ মার্চ যশোরে যোগদান করেন। তার যোগাদানের দুই মাসে ২২ জনকে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ করেছে পুলিশ। এরমধ্যে ৬ জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দলের অনেক সমর্থক রয়েছে।
গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার কারনে যৌথ বাহিনী অভিযানে নেমেছিল।
বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম
