Skip to content

“নতুন নির্বাচন না দিলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না”

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
বিগত নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল, সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাওয়া। কমিশনের সামনে এখনও সে সুযোগ রয়েছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নিয়ে করা এক রিটের শুনানিতে এ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে পরামর্শদানকারী) হিসেবে বুধবার তিনি এ কথা বলেন।
ড. কামাল হোসেন ছাড়াও আদালতে বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারও।
বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রিটের শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেন।
৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে ত্রুটিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, আরেকটি নির্বাচন চাই। না হয় জনগণ এবং ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
এর আগে ২৯ মে এর শুনানিতে ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এটা নজিরবিহীন। সংবিধানের মূলনীতি গণতন্ত্র। এতে বলা আছে, জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক। সংবিধান অনুযায়ী জনগণের পক্ষে ক্ষমতার প্রয়োগ করবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, তাদেরকে কি জন প্রতিনিধি বলা যাবে?
প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে ড. কামাল বলেন, ইয়েস, আমি সত্তরের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলাম। ওই নির্বাচনে আমি ছিলাম জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট। উপ-নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আমাকে প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিলেন।
সত্তরের নির্বাচনের সঙ্গে ২০১৪ সালের নির্বাচনের তুলনা করে সত্তরের নির্বাচনকে অপবিত্র করা হয়েছে। আমরা সব মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলেছি বলেও মন্তব্য করেন ড. কামাল।
এ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শুনানিতে অংশ নিয়ে বদিউল আলম মজুমদার দশম সংসদ নির্বাচনকে অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানান।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং সংবিধানের প্রস্তাবনায় গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। গণতন্ত্র বলতে জনগনের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার ব্যবস্থাকে বুঝানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনেও নির্বাচন বলতে জেনুইন নির্বাচনকে বোঝানো হয়েছে। ভোটারবিহীন নির্বাচন কোনো নির্বাচন নয়।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার বিধান সম্বলিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯ ধারা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার আবদুস সালাম রিট আবেদনটি করেন। পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারাকে কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এ রুলের শুনানির জন্য আদালত সাতজনকে এ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেন। তারা হলেন- ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫