Skip to content

আসামি খুনের অভিযোগে দুই পুলিশ গ্রেফতার

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ গ্রেফতারের পর মো.রোকনুজ্জামান (৪০) নামে নারী নির্যাতন মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে নগরীর পাঁচলাইশ থানার এস আই আমির হোসেন ও কনস্টেবল মোছলেমসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। এরপর তাদের নগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

পাঁচলাইশ থানার ওসি আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক থানা থেকে এস আই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল মোছলেমকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাবার বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরুর কথা বাংলানিউজকে জানিয়েছিলেন।

গত ১৮ জুন রাতে নগরীর বাকলিয়া থানার সৈয়দ শাহ রোড থেকে গ্রেফতারের পর পাঁচলাইশ থানা পুলিশের হেফাজতে রোকনুজ্জামানের মৃত্যু হয়।

২৫ জুন রোকনুজ্জামানের স্ত্রী শিমু আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানার এস আই আমির হোসেন, বাকলিয়া থানার এএসআই মোহাম্মদ এনায়েত হোসেনসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন, পাঁচলাইশ থানার এস আই আমির হোসেন, বাকলিয়া থানার এএস আই মো.এনায়েত হোসেন, পাঁচলাইশ থানার তিন কনস্টেবল মিজানুর রহমান (নম্বর-২৩৯০), মোছলেম (৪০৪৫) ও খোকন মিয়া (৩৯৫৮), আনসার কনস্টেবল শাহীনূর আলম (১৯১৬৭৭৫), পাঁচলাইশ থানার গাড়িচালক কনস্টেবল আকবর (৭১৭৮), পুলিশ সোর্স মো.জামাল ও হুমায়ন কবির এবং সাদা পোশাকে ঘটনাস্থলে থাকা সাধারণ নাগরিক হারুনুর রশিদ ডিউক।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৪৮, ৩০২, ৩৮০, ৩৫৪ এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

আদালত থেকে মামলাটি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার কুসুম দেওয়ানকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপ কমিশনার বাংলানিউজকে বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আঘাতজনিত কারণে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সন্ধ্যার দিকে এস আই আমির হোসেন ও দু’জন কনস্টেবলকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বাকলিয়ার একটি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সাবেক বিমা কর্মকর্তা ও বর্তমানে ফ্ল্যাট বিক্রির মধ্যস্থতাকারী রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে গত ৫ জুন সাজেদা বেগম নামে এক গার্মেন্টস কর্মী পাঁচলাইশ থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় তাকে গ্রেফতারের জন্য ১৮ জুন গভীর রাতে তার বাসায় যান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পাঁচলাইশ থানার এস আই আমির হোসেন।

বাসা থেকে বের করে পুলিশ গাড়িতে তোলার পর রোকনুজ্জামান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শরীর এলিয়ে দেন। পুলিশ দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে রোকনুজ্জামানের চাচাত ভাই হারুনুর রশিদ দাবি করেন, গ্রেফতারের জন্য রোকনুজ্জামানের বাসায় প্রবেশ করে পুলিশ তার বুকে লাথি মেরেছে। এতে তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

রোকনুজ্জামানকে গ্রেফতারের সময় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে গ্রেফতার হন প্রতিবেশী ও বিমা কর্মকর্তা আজিজুল হক।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, রোকনুজ্জামানকে গ্রেফতারের পর সোর্স জামাল তাকে মারধর করেছে।

ঘটনার পর পুলিশ সোর্স জামালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তবে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫