Skip to content

মেজাজ ফুরফুরে রাখতে ১০ খাবার

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: কাজ নিয়ে সারাক্ষণই আমাদের ব্যস্ততার মধ্যে। বিশেষ করে নাগরিক জীবনে। এতে মেজাজ যেমন খিটখিটে হয়ে থাকে, মাথায়ও থাকে তেমন টেনশন।

তবে পরিমাণ মতো সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার খেয়ে থাকা যায় চাপমুক্ত ও ফুরফুরে মেজাজে।

সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসিক চাপ আর খিটখিটে ভাব দূর করতে পরিমাণ মতো খাবার ও খাবার শেষে মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য খাওয়ার বিকল্প নেই।

হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুরোগ বিদ্যা ও পুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড লডিগ বলেন, আমরা যখন কাজের মাত্রাতিরিক্ত চাপে থাকি তখন পুষ্টিকর খাবার খেলে রক্তে শর্করা ও হরমোন বেড়ে তাৎক্ষণিক স্বস্তি অনুভব করি।

কিন্তু অনেক সময় সেই খাবারই বিপর্যস্ত করে ফেলে। তবে যত চাপেই থাকুন শরীরকে স্বস্তি দিতে হবে।

তিনি বলেন, শরীরের রসায়ন বিভিন্ন ধরনের চাপকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে মেজাজ ঠিক রাখতে খাদ্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রতিনিয়ত সুস্থ ও চাপমুক্ত থাকতে নিচের খাদ্যতালিকার পরামর্শ দিয়েছেন বোস্টন হাসপাতালের এই গবেষক।

কুমড়ো বীজ

কুমড়ো বীজের তৈরি এবং এ ধরনের খাদ্যে প্রচুর পরিমাণ পটাসিয়াম, ফসফরাস, জিংক ও ম্যাগনিসিয়াম রয়েছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকানদের মাত্র এক তৃতীয়াংশ তাদের দৈনন্দিন ম্যাগনেসিয়ামের চাহিদা পূরণ করছে। যা মাথা ব্যথা, উদ্বেগ, ক্লান্তি, অনিদ্রা ও উচ্চ রক্ত চাপের ঝুঁকি হতে পারে।

ম্যাগনেসিয়াম মস্তিষ্কের বৃদ্ধিতে সহায়ক কাজ করে। কুমড়ো জাতীয় খাদ্যে এটা পাওয়া যায়।

কালো ও সবুজ শাক-সবজি

বাঁধাকপি ও অন্য সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে শরীরের জন্য উপকারী ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এর অভাবে শরীরের ক্লান্তি ও অবসাদ চলে আসে।

ডিম

ডিমকে বলা হয় দ্য গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড অব প্রোটিন! ডিমে ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, স্যালেনিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন এ ডি ই এবং কে রয়েছে।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনো চিকিৎসাবিদ ও দ্য হ্যাপিনেস ডায়েট গ্রন্থের লেখক দ্রিউ রামসি বলেন, সকালের নাস্তায় একটি মাত্র টিম আপনার কর্মশক্তি বাড়িয়ে দেবে। এতে উদ্বিগ্নতা ও অবসাদ আর ক্লান্তিকে ছুটিতে পাঠাবে।

গাজর ও সেলারি

গাজর ও সেলারি শরীরের যন্ত্রের মতো কাজ করে। আঁশ জাতীয় খাদ্য হওয়ায় এটি শরীর ও মানসিক গঠনে বেশ কার্যকরী। এছাড়া নিযমিত গাজর খেলে দাঁতের মাড়ি ও এর গঠন শক্তিশালী হয়। নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ দূর করতেও এ জাতীয় খাদ্য উপকারী।

ওমেগা-৩

ওমেগা হচ্ছে একধরনের পলি আনস্যাটুরেটেড ফ্যাটি এসিড। একে বলা হয় অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড, যা শরীরের জন্য প্রয়োজন কিন্তু মানব শরীর তা উৎপন্ন করতে পারে না। তাই খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এটি আর্ন করতে হয়।

ওমেগা-৩, ওমেগা-৬ এবং ওমেগা-৯ থাকলেও শরীরের সবচেয়ে উপকারী হচ্ছে ওমেগা-৩। মাছের তেল এবং উদ্ভিদ থেকে এটি পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেন, ওমেগা-৩ হৃদরোগ, রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। ব্লাড প্রেসার ঠিক রাখে এবং শিশুর মস্তিষ্ক গঠনেও সাহায্য করে।

তেলযুক্ত মাছ বিশেষ করে কর্ড লিভার, টুনা, সার্ডিন, স্যালমনসহ সামুদ্রিক মাছ ও বাদাম, ভেজিটেবল ওয়েল এবং ওলিভ ওয়েলে ওমেগা-৩ পাওয়া যায়।

ফ্ল্যাক্সিড

ফ্ল্যাক্সিডে ফ্যাটি এসিড রয়েছে। চল্লিশ বছরের পর প্রত্যেক দিন নির্দিষ্ট পরিমাণে ফ্ল্যাক্সিড খেলে মস্তিষ্ক অনেকদিন সক্রিয় থাকে এবং এটা অ্যালজাইমারও প্রতিরোধ করে।

গোটা শস্য

বাদামি চাল ও ওটমিলসহ বিভিন্ন গোটা শস্যে তৈরি খাদ্যে প্রচুর ভিটামিন রয়েছে। এসব পুষ্টিকর খাদ্য শরীরের শর্করার ঘাটতি পূরণ করে।

লাল মরিচ, পেঁপে ও কিউই

এই তিন খাদ্যে কী আছে? এসবে কমলালেবুর তুলনায় বেশি রয়েছে ভিটামিন সি। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, হরমোনের স্ট্রেস কমাতে ভিটামিন সি কার্যকরী। তীব্র মানসিক যন্ত্রণাও প্রশমিত করে।

চা

এককাপ কালো চা পানে আপনি আরো দ্রুত কোনো কাজের চাপ ও ক্লান্তি দূর করে চাঙা হতে পারেন।

ছয় সপ্তাহে দৈনিক চার কাপ চা পান করা এবং অন্য পানীয় পান করাদের নিয়ে একটি একটি সমীক্ষা চালানো হয়।

এতে দেখা গেছে, অন্যদের তুলনায় চা পান করা ব্যক্তিদের চাপ পরিস্থিতিতে স্ট্রেস হরমোন করটিসলের মাত্রা কম ছিল। সুতরাং, কর্মক্ষেত্রে শরীরকে চাঙা রাখতে এককাপ চায়ের বিকল্প কিছু নেই।

ডার্ক বা কালো চকোলেট

পলিফেনল সমৃদ্ধ কালো চকোলেট রক্তচাপ কমায়। ইউনিভার্সিটি হসপিটাল জার্মানির গবেষক ডির্ক টোবার্ট বলেন, কালো চকোলেট রক্তচাপ কমিয়ে শরীরকে স্ট্রেসমুক্ত রাখে। ওজন বেড়ে যাওয়া বা কোলেস্ট্রল বেড়ে যাওয়া থেকেও রক্ষা করে।

এক সমীক্ষায় দেখা যায়, রক্তচাপ আছে এমন ৫৬ থেকে ৭৩ বছর বয়স্ক ৪৪ জন রোগীকে দৈনিক ৩০ মিলিগ্রাম পলিফেনলসমৃদ্ধ কালো চকোলেট দেওয়া হয়। যাতে ৩০ ক্যালোরি শক্তি ছিল।

অন্যদেরকে ৩০ ক্যালোরি সমৃদ্ধ পলিফেনলবিহীন সাদা চকোলেট দেওয়া হয়। ১৮ সপ্তাহ পর তাদের রক্তচাপ মেপে দেখা যায় যে, যারা পলিফেনলসমৃদ্ধ চকোলেট খেয়েছিল তাদের ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ২ পয়েন্ট এবং সিস্টোলিক রক্তচাপ ৩ পয়েন্ট কমেছে।

কিন্তু অন্যদের কোনো উন্নতিই হয়নি। তবে ৩০ ক্যালোরি শক্তি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫