Skip to content

৩১ আগস্ট বাংলাদেশ-মিয়ানমার নিরাপত্তা বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের নিয়মিত বৈঠক আগামী ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের বৈঠক দুদেশের মধ্যকার অষ্টম বৈঠক। দিনব্যাপী বৈঠকটি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এবারের বৈঠকেও বাংলাদেশ পক্ষের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব এবং মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী। এবার মিয়ানমারের সঙ্গে নিয়মিত নিরাপত্তা বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, উপকূল দিয়ে জাহাজ চলাচল চুক্তি, সম্পূরক সীমানা প্রটোকল অনুসমর্থনসহ অন্যান্য বিষয়গুলো স্থান পাবে।

গত জুন মাসের ১৮ তারিখ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জুনের শুরুতে বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের গুলিবর্ষনে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এক সৈনিক নিহত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। ওই পরিস্থিতিতে মায়ানমারের পক্ষ থেকে বৈঠকটি স্থগিত হয়।

অষ্টম বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, আগামী মাসেই দুদেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুদেশের সম্পর্ক এখন সঠিক পথে আছে। এবারের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানসহ দুদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়েই আলোচনা হবে। এমনকি আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে আসবে।

এর আগে ২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল দুদশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের সপ্তম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে। সপ্তম বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, মিয়নমারের সঙ্গে বিদ্যমান আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠক করতে চায় বাংলাদেশ। ফলে বৈঠকে একটি নিরাপত্তা সংলাপ সমঝোতার প্রস্তাব দিবে বাংলাদেশ। প্রতিবেশি এ দেশের সঙ্গে এ সমঝোতাটি হলে নিরাপত্তাজনিত যেকোনো বিষয়ে আলোচনা করা যাবে। চলতি মে মাসে নিরাপত্তা বৈঠক বিষয়ক একটি সমঝোতা হওয়ার কথা ছিলো। এ নিয়ে বাংলাদেশ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এর একটি খসড়া প্রস্তাব মিয়ানমারকে পাঠিয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ইস্যুতে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বা কোঅরডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান (সিবিএমপি) নিয়েও আলোচনা করা হবে। এটি মূলত দুই দেশের সীমান্তে ইস্যুগুলো নিয়ে একটি গাইড লাইন। এর মধ্যে সীমান্ত দিয়ে মাদক, নারী বা অস্ত্র পাচারসহ যাবতীয় অবৈধ কাজ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া সীমান্তে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অসুরক্ষিত স্থানগুলো চিহ্নিতকরণ, সমন্বিত পেট্রোলিং এবং গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।

এছাড়া বৈঠকে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পূরক সীমানা প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করতে চায় বাংলাদেশ।

১৯৬৬ সালে প্রথম পাকিস্তান ও বার্মার মধ্যে সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি সই হয়। এ সময়ে নাফ নদীকে সীমান্ত হিসেবে চিহ্নিত করে দুই দেশ। এরপর ১৯৮০ সালে প্রথম বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে এর সম্পূরক সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি সই হয়।

২০০৭ সালে দুই দেশই এটিকে প্রাতিষ্ঠানকি রূপ দিতে সকল অনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছে। যদিও দুই দেশই এর সরকারের পক্ষ থেকে অনুসমর্থনের অনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার চাচ্ছে উভয় দেশের যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে এটি করিয়ে নিতে। চুক্তির মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, সীমান্ত পিলার রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো রয়েছে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫