বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবার বিমান হামলা শুরু করেছে মানবতার শত্রু ইসরাইল। মঙ্গলবার বিকেলে চালানো এ হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টায় টানা নয়দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার কয়েক ঘন্টা আগেই হামলা শুরু করে দখলদার সেনারা। গাজা উপত্যকার কয়েকটি স্থানে এ হামলা চালানো হয়।
ইসরাইলি বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর গাজা উপত্যকার পূর্বাঞ্চল থেকে হাজার হাজার অধিবাসী তাদের ঘরবাড়ি ছেলে পালাতে শুরু করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তেল আবিব দাবি করেছে, গাজা থেকে ইসরাইল অভিমুখে রকেট হামলা চালানোর পর তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরাইলের এ দাবি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, মিশরের রাজধানী কায়রোয় যুদ্ধবিরতির চলমান আলোচনাকে বানচাল করার লক্ষ্যে গাজায় হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী সেনারা। অন্যদিকে তেল আবিব সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার জন্য হামাসকে দায়ী করে কায়রো থেকে তার আলোচক দলকে ডেকে পাঠিয়েছে।
গত বুধবার ইসরাইল ও হামাস গাজায় তিনদিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো পাঁচ দিন বাড়াতে একমত হয়েছিল। সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয় সোমবার মধ্যরাতে। সোমবার ওই মেয়াদ আরেক দফায় একদিন বাড়ানো হয়। হামাস বলেছে, গাজার ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যহারসহ তাদের ন্যায্য দাবিগুলো না মানলে কোনোমতেই স্থায়ী যুদ্ধবিরতির চুক্তি হবে না। হামাস বলছে, গাজার ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং সমুদ্র ও বিমানবন্দর চালুর অধিকার দিতে হবে। অন্যদিকে ইসরাইল বলছে-হামাসকে নিরস্ত্র করা হলেই কেবল তারা অবরোধ তুলবে। কিন্তু প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মতে, সর্বাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ইসরাইলের মোকাবিলায় নিরস্ত্র হওয়ার অর্থ আত্মহত্যা করা। তারা মনে করেন, এ পর্যন্ত ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের যত দাবি মেনে নিয়েছে তা কেবল সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধের কারণেই।
