Skip to content

“পিনাক-৬ উদ্ধারে ব্যর্থতার জন্য প্রশাসন নয়, প্রকৃতি দায়ী”

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ডুবে যাওয়া লঞ্চ পিনাক-৬ উদ্ধারে ব্যর্থতার জন্য প্রকৃতিকেই দোষলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেন, লঞ্চটির উদ্ধার কার্যক্রমের ব্যর্থতা প্রশাসনিক বা প্রযুক্তিগত নয়, বরং প্রাকৃতিক। বর্তমান সরকারের আমলে নৌদুর্ঘটনা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।
আজ সোমবার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে সরকারি দলের সদস্য বেগম সেলিনা জাহান লিটার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে আরো জানান, লঞ্চটি পদ্মায় ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম এবং নির্ভীককে। এতে বিআইডাব্লিউটিএ, নৌ-বাহিনী, ফায়ার ব্রিগেড, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করেন। একটানা ৭ দিন উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। লঞ্চটি শনাক্ত করার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সাইড স্ক্যান সোলার, মাল্টিবিম ইকো সাউন্ডার, সিঙ্গেলবিম ইকো সাউন্ডার এবং সাব বোটম প্রফাইলার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু জাহাজটির অবস্থান নির্ণয় করা যায়নি। এরপর আট দিনের মাথায় উদ্ধারকারী দলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে পিনাক-৬ উদ্ধার কার্যক্রম পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
একই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এম এ হান্নান। তার উত্তরে মন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার ১৫টি কারণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, মাস্টার-চালকদের ভুল সদ্ধিানত্ম, যাত্রীদের অজ্ঞতা ও অসচেতনতা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। এ ছাড়া যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের কারণে এদিক সেদিক ছুটা-ছুটির ফলে লঞ্চটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়।
জাতীয় পার্টির পীর ফজলুল রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রতি ঈদে নৌদুর্ঘটনা ঘটছে এ অভিযোগ সঠিক নয়। ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রতি বছর সর্বাধিক ৩১টি এবং সর্বনিম্ন ২০টি নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০০৯-২০১৪ মেয়াদে সর্বাধিক ১৪টি এবং সর্বনিম্ন পাঁচটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে ১১টি ঈদ পার করেছি। এর মধ্যে মাত্র দুটি ঈদে ২০০৯ সালে কোকো লঞ্চ এবং এবার পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। লঞ্চ মালিকের অতিরিক্ত মুনাফা লোভের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী শাহজাহান খান জানান, স্বাধীনতার পর নৌপথে এ পর্যন্ত ৫৫৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে সাড়ে চার হাজার মানুষ মারা যায়। শুধু লঞ্চ দুর্ঘটনায়ই মারা যায় তিন হাজার ৬৮৩ জন। বাকিরা অন্যান্য নৌযান দুর্ঘটনায় ৮১৭ জন মারা যায়।
বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫