Skip to content

বাঁধ ভেঙ্গে সাতক্ষীরায় ১৪টি গ্রাম প্লাবিত

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
সাতক্ষীরা : সুন্দরবনের খোলপেটুয়া নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দুটি ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।
গ্রামবাসী দুপুর থেকে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ভাটার টান না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাঁধের প্রায় চারশ’ ফুট এলাকা ভেঙ্গে গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সন্ধ্যার পর শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অনত্র পাড়ি জমিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোববার সকালে জোয়ারের পানির তোড়ে মাদিয়া এলাকায় পুরনো বেড়ি বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ভাঙ্গন এলাকা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তার ইউনিয়নের মাদিয়া, ভামিয়া, বীরসিংহ, পোড়াকাটলা, আড়পাঙ্গাশিয়া, দুর্গাবাটি, পশ্চিম দুর্গাবাটি ও কলবাড়ি গ্রামে পানি ঢুকে যায়। এসব গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে পানি ঢুকে যাওয়া ছাড়াও কয়েকশ’ চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়তে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। এলাকার কিছু বৃদ্ধ, রোগগ্রস্ত এবং প্রতিবন্ধীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও চেয়ারম্যান জানান ।
ঘটনাস্থলে শ্যামনগরের ইউএনও আবু সালেহ মঞ্জুরুল আলম এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে ভাঙ্গনরোধে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন ।
এদিকে আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ জানান ভাঙ্গনের ফলে তার ইউনিয়নের বয়ারসিংহ, হেনচি, মোল্লাপাড়া, বোয়ালিয়া, বাদুড়িয়া, বড়কুপোট ও ছোটকুপোট তলিয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, বাড়িঘর ধসে না পড়লেও রাস্তাঘাট এবং বিপুল সংখ্যক চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশনাল অফিসার ( এসও ) নিখিল দত্ত জানান, ভাঙ্গন পয়েন্টটি ২০০৯ এর আইলার আঘাতেও টিকে ছিল। ফলে বাঁধটির এই অংশ মেরামত না করায় জোয়ারের পানিতে তা ধসে গেছে। তিনি বলেন, বিকেল নাগাদ সর্বোচ্চ ২০০ ফুট বাঁধ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে আছে। জোয়ারের পানির তোড় না কমলে বাঁধ মেরামত করা যাচ্ছেনা বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, জোয়ারের নোনা পানিতে এ এলাকার খাবারের মিষ্টি পানির একমাত্র উৎস রিজার্ভ পুকুরগুলি তলিয়ে গেছে। ইরি ধানের খেতও পানির নিচে রয়েছে বলে জানান তিনি।
শ্যামনগর এলাকার সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার জানান, বাঁধ রক্ষার সব চেষ্টা চলছে। তবে পানির জোর না কমায় তা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি পানি সম্পদ মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।
মন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বাঁধ রক্ষা করতে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত রয়েছে ।
জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান (প্রশাসন) জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন নিয়ে প্লাবিত এলাকায় থেকে বাঁধ সংস্কার তদারকি করছেন। বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫