বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব ড. মাকসুদুল হাসান খানকে প্রত্যাহার করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল আবদুল নাসের বরাবর এ চিঠি দিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান মো: বদিউজ্জামান (ডিও নং ১৯/২০১৫)। এতে মাকসুদুল হাসান খানকে দুদক থেকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি তার পরিবর্তে নতুন আরেকজন সচিবকে দুদকে নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার রাতে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে এ বিষয়ে জানার দুদক চেয়ারম্যান মো: বদিউজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। কিছু বলতে চাই না।’
পদ শূন্য হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৬ আগস্ট দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান অতিরিক্ত সচিব মাকসুদুল হাসান খান। এর আগে তিনি পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। দুদকে দায়িত্ব নিয়েই তিনি নানা জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। কমিশনের (দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার) সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে শুরু হয় দ্বন্দ্ব।
দুদকের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, আইন অনুসারে দুদকের শুধু সাচিবিক দায়িত্ব পালন করাই তার দায়িত্ব হলেও তিনি তা মানতেন না। বিভিন্ন সার্কুলার ও অফিস আদেশের বাইরেও অনুসন্ধান, তদন্ত, তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ, বদলি, মামলা অনুমোদন ইত্যাদি সিদ্ধান্তের অনুলিপি তাকে দিতে নির্দেশনা জারি করেন। কমিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ ও বিভাগীয় মামলা করার কারণে তার ওপর তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। দুদকের কর্মকর্তারাও কমিশনের কাছে সচিবের কার্য্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সর্বশেষ দুদকে পদোন্নতি নিয়ে কমিশনের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। পদোন্নতির প্রশ্নে শুরু থেকেই জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিষয়ে তীব্র আপত্তি করে আসছেন বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভাপতি ও দুদক সচিব মোঃ মাকসুদুল হাসান খান।
গত রোববার কমিশন সভায় দুদকের একজন কমিশনার এবং সচিব মুখোমুখি অবস্থান নেন। দুদকের কমিশনার কেবল জ্যেষ্ঠতাকে বিবেচনায় না এনে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতির পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে সচিব জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে বলেন।
পদোন্নতির বিষয়ে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেও এতে সাক্ষর করেননি সচিব মাকসুদুল হাসান খান। কমিশনকে তিনি জানিয়ে দেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালিকায় তিনি সাক্ষর করবেন না।
দুদকের পদস্থ একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, দুদকে সচিবের দায়িত্ব পালনের শুরু থেকে তিনি অসহযোগিতামূলক আচরণ করছেন। দুদকের নিজস্ব কর্মকর্তা এবং প্রেষণে আসা অন্য দফতরের কর্মকর্তাদের মধ্যে স্নায়ু বিরোধ উসকে দেন তিনি। বেশি সংখ্যক প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাকে দুদকে বসাতেও সদা সচেষ্ট তিনি। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
