বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: ফলের ফরমালিন শনাক্তকারি ‘ডিহাইড মিটার জেড-৩০০’ এই বিতর্কিত মেশিনের কোনো হদিস নেই। গত বছর মেশিনটি আইনি ঝামেলায় পড়ে পুলিশের উপস্থিতিতে সরকারি পরীক্ষাগারে ঢোকে।
তবে সরকারি পরীক্ষাগার থেকে ফরমালিন নির্ণায়ক মেশিনটির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং মেশিনটি কোথায় রয়েছে সেই বিষয়েই জানেন না সংশ্লিষ্টদের কেউ।
এবিষয়ে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এর খাদ্যবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গবেষক মো. আলমগীর কবির বাংলানিউজকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো মেশিন আমাদের কাছে আসেনি। আর এই মেশিন সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।’
‘ডিহাইড মিটার জেড-৩০০’ মেশিন ফলের ফরমালিন নির্ণয়ের জন্য উপযুক্ত কিনা গত বছর জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে ৫৫৬ পৃষ্ঠার একটি রিট দায়ের করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই হাইকোর্ট এটা জানতে চান।
‘বাংলাদেশে ফলের ফরমালিন শনাক্ত করার জন্য কোনো মেশিন বা কিট নেই। দীর্ঘ মেয়াদি ল্যাবম্যাথড (অনেক কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতি) ব্যবহার করে ফরমালিনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষাগার ছাড়া ফলের ফরমালিন নির্ণয়ে অন্য কোনো ব্যবস্থা দেশে নেই’ বলে জানান সিনিয়র গবেষক মো. আলমগীর।
মো. আলমগীর বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন, ‘ডিহাইড মিটার জেড-৩০০’ মেশিন বিসিএসআইআর পরীক্ষাগারে নেই।
‘তাহলে মেশিনটা গেল কোথায়?’– এই প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্পগবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এর সহকারি সচিব হারুনুর রশিদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘১১টি মন্ত্রণালয় মিলে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানিদের নিয়ে কমিটি গঠন করে মেশিনটির উপর পরীক্ষা চালাচ্ছে।’
তবে পরীক্ষার অগ্রগতি ও কোনো গবেষণাকেন্দ্রে পরীক্ষাধীন রয়েছে ‘ডিহাইড মিটার জেড-৩০০’ মেশিনটি এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সচিব বলেন, ‘বেশি কিছু আমি জানি না।’
গত বছর রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মৌসুমী ফলে (আম, জাম ও লিচু) ফরমালিনের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য ‘ডিহাইড মিটার জেড-৩০০’ ব্যবহার করা হয়।
ওই বছরের ১৩ জুলাই বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাধন চন্দ্র দাশ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান, বিএসটিআই মহাপরিচালক ও ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির মহাপরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে ওই মেশিন কি কি কাজে ব্যবহার হয় পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
সেই সঙ্গে বিতর্কিত মেশিন দিয়ে ফরমালিনবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের রুলের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) পুলিশের এডিসি অপারেশন মো. তারেকের উপস্থিতিতে ‘ডিহাইড মিটার জেড-৩০০’ মেশিনটি বিসিএসআইআর পরীক্ষাগারে জমা দেয়া হয় বলে জানা যায়।
বাংলানিউজের পক্ষ থেকে মেশিনটির বর্তমান অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এডিসি তারেক বলেন, ‘ফরমানিল মেশিন বর্তমানে কোথায় বা কি অবস্থায় রয়েছে সেই বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
‘যদি দেশে ফলের ফরমালিন নির্ণয়ের জন্য কোনো ব্যবস্থা না-ই থাকে তাহলে, কেন হয়েছিল অভিযান?’ এবিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেস ফ্রুটস ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাধন চন্দ্র দাস বাংলানিউজকে বলেন, ‘গত বছর প্রশাসন জুস কোম্পানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাদের হয়রানি করেছে।’
এই প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এডিসি অপারেশন মো. তারেক বলেন, ‘এবিষয়ে আমার কথা বলার রাইট(এক্তিয়ার) নাই।সিনিয়রদের সাথে কথা বলুন।’
বিতর্কিত ‘ডিহাইড মিটার জেড-৩০০’ এই মেশিন ‘সিমেন্টের’ গুণগত মান নির্ণয়ে ব্যবহার হয় বলে দাবি করেন সাধন চন্দ্র।
তিনি জানান, ‘হাইকোর্টের রিটের পর বোতলজাত ফলের জুসের নাম পরিবর্তন হয়ে গত বছরেই ‘জুসের’ স্থানে ‘ড্রিংক’ শব্দটি ব্যবহার হয়।’ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
