মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার ॥
গাজীপুর: গাজীপুরে অতি পুরাতন অফিসের বড়ই জরাজীর্ণ অবস্থা। কে শুনবে এসব অফিসের দুঃখ-গাঁথা!
আড়াই বছর আগে কাপাসিয়া উপজেলার কুশদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসটিও জরাজীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী ছিল। তখন সেখানে যোগদান করেন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাজীুপর মহানগরীর উত্তর ছায়াবীথিতে থাকছেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি গাজীপুর পৌর ভূমি অফিসে যোগদান করেন।
কুশদী অফিসের দেয়াল ও ফ্লোরের প্লাষ্টার-ঢালাই অর্ধেকের বেশী অংশে ক্ষয়ে গেছে দেখে তিনি একটু হোচট খান। চিন্তিতও হয়ে পড়েন। ভাবেন কী করে কাজের অনুকূল পরিবেশ তৈরী করা যায়। বিশেষ করে অফিসটির চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে তিনি বিমুগ্ধ হন। নদীর চর এলাকায় অবস্থিত অফিসটির পূর্ব দিকে দিগন্ত বিস্তৃত খোলা প্রান্তর। সেখানে সবুজে ভরা ধান ক্ষেতের হাতছানি মন-প্রাণ স্নিগ্ধতায় ভরিয়ে দেয়।
শহরের ইট-পাথরের পাষাণ পরিবেশ থেকে কুশদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ যে কতটা মনোরম সুন্দর ও নিরিবিলি এক স্বর্গীয় লীলাভূমি তা প্রত্যক্ষ না করলে কল্পনা করা কঠিন। মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নিজ কর্মস্থলের জরাজীর্ণ বেমানান অবস্থা সহজভাবে মেনে নিতে পারছিলেন না। সরকারি উদ্যোগের আশায় থাকলে অফিস সংস্কার হবে কতদিনে তার ঠিক-ঠিকানা নাই। কুশদী অফিসে সারাদিনে দুই-চারটির বেশি কাজ হয় না। অবসর সময়টা তাই অফিসের পরিবেশ সুন্দর করার কাজে মনোনিবেশ করেন তিনি। স্থানীয় সমাজসেবী জনপ্রতিনিধি ছাড়াও ইউএনও এবং অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তার সহযোগিতা চান। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। কেউ নগদ অর্থ, কেউ ইট-বালি, সিমেন্ট বা সুঁড়কি দিয়ে অফিস সংস্কারের কাজে এগিয়ে আসেন। টিনশেড বিল্ডিং এর দেয়াল ও ফ্লোর সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। এরপর ভেতরে-বাইরে রঙ করানো হয়। এখন ঝকঝকে অফিসটি দেখলে মনে হয় সদ্য নির্মিত। এক একর জমির অর্ধেকটা স্থান জুরে অফিস ও স্টাফ কোর্য়াটার। সীমানা প্রাচীর না থাকায় বাকী জমি অরক্ষিত। এ অবস্থায় বাঁশের ঘেরাও দিয়ে অফিস ক্যাম্পাসের খালি জায়গায় তিনি ফুল, ফল, ঔষধী ও কাঠ গাছের চারা রোপনের কাজ শুরু করেন। যেমনঃ ফুল গাছের মধ্যে রয়েছে- গোলাপ, পলাশ, টগর, জবা, বেলী, গন্ধরাজ, হাসনাহেনা, মোরগ ফুল, গাঁদা, নাগ, বকুল ইত্যাদি ও বিভিন্ন জাতের পাতা বাহার গাছের চারা।
আছে- আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, চালতা, বড়ই, কামরাঙা, লটকন, কাঠবাদাম, কদবেল, তেঁতুল, আনারস, কলা, পেঁপে, ছেফফল, সৌদি খেজুর, সুপারী, নারকেল, ডালিম, আমড়া ইত্যাদি ফল গছের চারা।
এ ছাড়াও আমলকি, হরতকি, বহেরা, অর্জুন, বাশক, তুলসী, কালোমেঘ, মেহেদী, আকন্দ, পাথরকুচি, নাগেশ্বর, আগর, তেসপাতা ইত্যাদি জাতের ঔষধী গাছের চারা রোপন করেছেন। আরো আছে মেহেগনি, লম্বু, সেগুন ইত্যাদি কাঠ গাছের চারা।

এত করেও মনে অপূর্ণতার অসন্তোষ পীড়া দেয় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাককে। কারণ অফিস ও কোয়ার্টারের দীর্ঘদিনের পুরাতন টিনের চাল সংস্কার করাতে পারেননি তিনি। মরিচা ধরা ছিদ্রযুক্ত টিনের চাল এখনো রয়ে গেছে। যেন বহুদিনের জরাজীর্ণ দৈন্যদশার সাক্ষ্য বহন করছে। হয়তো অন্যান্যা জরাজীর্ণ সরকারি অফিসগুলোর দুঃখ দুর্দশার কথা সবাইকে জানান দিতে কিংবা সমবেদনা জানাতে ওই কাজটুকু অসম্পূর্ণ রয়েছে।
হয়তো নজির হয়ে থেকে বলতে চাইছে, সরকারি উদ্যোগের আশায় সব কাজ ফেলে না রেখে নিজেদের সদিচ্ছা ও উদ্যোগ দিয়ে কিছু উন্নয়ন ও জনকল্যাণে অন্যান্যদেরও এগিয়ে আসতে। মোঃ আব্দুর রাজ্জাক যেন অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপ্রেরণা হয়ে এগিয়ে চলার পথ দেখান।
