বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা- বাংলাদেশে নতুন শিল্প স্থাপনে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত। জানালেন এফবিসিসিআই–এর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। সফররত ভারতের মুসলিম ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার ঢাকায় এফবিসিসিআইয়ের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে মতবিনিময় করে। সেখানেই তারা বাংলাদেশের বাজারে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানায়।
ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইন্ডিয়ান মুসলিম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ দাউদ খান। এসময় মাতলুব আহমাদ বলেন, স্বাধীনতার পর যে কোনও সময়ের তুলনায় বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তবে এই মুহূর্তে আর্থিক বিনিয়োগের চেয়ে প্রযুক্তিগত, দক্ষতা ও ব্যবসার নতুন কৌশল নিয়ে এলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেশি ভাল সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন ৩০ বিলিয়নের চেয়ে বেশি রিজার্ভ রয়েছে। সুতরাং এখানে নতুন আর্থিক বিনিয়োগ প্রয়োজন নেই। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চাইলে তাদের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে এসে এদেশে যৌথ অংশীদারিত্বের ব্যবসা করতে পারেন। আলোচনায় বাংলাদেশে বেকারি ও বয়লার শিল্পের সম্ভাবনার বিষয়ে ঢাকার ব্যবসায়ীদের অভিমত জানতে চান ভারতের নাগপুরের শাবানা বেকারির পরিচালক সুলাইমান ও তাজ বয়লার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেহজাদ খান।
জবাবে মাতলুব বলেন, বাংলাদেশ এখন উচ্চমূল্যের বেকারিপণ্যে সমৃদ্ধ। সুতরাং এই ব্যবসায় নতুন করে এসে সুবিধা করা কঠিন হবে। তবে মধ্যবিত্তের কথা চিন্তা করে কোনও বেকারি ফ্যাক্টরির কথা ভাবা যেতে পারে।
বয়লার শিল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, শিল্পের দ্রুত বিকাশের কারণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বয়লারের একটি বড় বাজার হতে যাচ্ছে। এখন বিদেশ থেকে আমদানি হতে থাকা বয়লার এই দেশে উৎপাদন করতে হলে এর মানের বিষয়টিকে সবার আগে বিবেচনা করতে হবে। শুধু একটি সম্প্রদায়ের নামে কেন ব্যবসায়ীদের জোট? সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ইন্ডিয়ান মুসলিম চেম্বারের সভাপতি দাউদ খান বলেন, ভারত একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সেখানে মুসলিমসহ সব সম্প্রদায় সমান অধিকার নিয়ে ব্যবসা করতে পারে। তারা ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার জন্যই এমন জোট করেছেন যা, ভারতের সংবিধানে স্বীকৃত।
সফররত ভারতীয় প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- নাগপুর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সুরেশ নাগপুরে, রকেট আগরবাতি কোম্পানির মেহবুব খান, দানিশ মেশিনস–এর পরিচালক আসিফ খান, শারিয়াহ এগ্রিকালচারের এমএসএ কুরাইশি।
