আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীদের তৎপরতা দমন করতে দুই মাসের জন্য সামরিক শাসন জারির ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রোদ্রিগো দুতার্তে। ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপের মারওয়ি সিটিতে মঙ্গলবার বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতে ফিলিপাইনের তিন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হওয়ার পর সামরিক শাসন জারির এ ঘোষণা দেন দুতার্তে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে মারওয়ি শহরে ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর এক সিনিয়র নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালালে ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। সংঘাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাউতি গ্রুপের সদস্যরা মারওয়ির একটি হাসপাতাল, একটি কারাগার দখল করে ও কিছু স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয় যার মধ্যে একটি গীর্জাও রয়েছে। সংঘাতের সময় সারকারি বাহিনীর তিনজন নিরাপত্তা কর্মীও নিহত হয়।
ওই ঘটনার পর রাশিয়ায় সফররত প্রেসিডেন্ট রুদ্রিগো দুতার্তে মিন্দানাও দ্বীপে সামরিক শাসনের ঘোষণা দেন। প্রয়োজনে এই সামরিক শাসনের সময়কাল এক বছরের জন্য বাড়ানো হতে পারে বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট দুতার্তের এক জরুরি বৈঠকের কথা ছিল। ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে মিন্দানাও দ্বীপে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে ইসলামি বিদ্রোহীদের সংঘাতের কারণে তিনি তাঁর সফর সংক্ষিপ্ত করে বুধবারই দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস করে। কয়েকটি ইসলামি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ওই অঞ্চলে স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে যাচ্ছে। এদের মধ্যে মাউতি গোষ্ঠীর সদস্যরা নিজেদের মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর আইএস’র অনুসারী বলে দাবি করে। ইসলামি দলগুলোকে দমন করতে পূর্বের কোনো সরকারই সক্ষম হয়নি। প্রেসিডেন্ট দুতার্তের জারি করা সামরিক শাসন ওই অঞ্চলে শান্তি নিশ্চিত করতে পারবে কি না তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিবিসি, এনপিআর
