আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ম্যানচেস্টারে হামলাকারী মুসলিম ও ব্রিটেনে অভিবাসী হওয়ায় সেখানে বসবাসরত মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে নতুন করে নানা শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এ ধরনের হামলায় অভিবাসীদের আগামী দিনগুলো অনেকটাই কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে ধারনা করছেন তারা। এদিকে, ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে মুসলিম কমিউনিটি।
ম্যানচেস্টারে আয়োজিত কনসার্টে আত্মঘাতী বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে বুধবার প্রতিবাদ সমাবেশ করে লন্ডনে বসবাসরত মুসলিম কমিউনিটি। বিগত দুই বছরে ব্রিটেনসহ ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পেছনে মুসলিম অভিবাসী জড়িত থাকায় মুসলিম কমিউনিটির ওপর থেকে ব্রিটিশ জনগণের আস্থা উঠে গেছে উল্লেখ করে এটি ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তারা।
রাজনীতিবিদ ও ইসলামী গবেষক আজমল মাশরুর বলেন, ‘মসজিদের মধ্যে এরিমধ্যে দুইটা আক্রমণ হয়ে গেছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা খুবই শঙ্কিত। একজন ব্যক্তি পাবলিকের মধ্যে ঢুকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটালো। এটা দূর করতে হবে শীঘ্রই। এটির বিপরীতে সবাইকে দাড়াতে হবে। আমরা ব্রিটেনের জনগণ, ব্রিটেন আমাদের দেশ’।
সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই এবং সবাইকে এক হয়ে এসব সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে হবে বলে মনে করেন অনেকে।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র অলিউর রহমান বলেন, ‘যারা বোমা মেরে ম্যানচেস্টারে বা”চাদেরকে মেরেছে, মহিলাদেরকে মেরেছে। এটা ইসলামের কোন ব্যাখ্যাতেও নাই, কুরআনও এটা বলে না’।
কবি শামীম আজাদ বলেন, ‘আমার একত্রে পথে নামা উচিৎ এবং জনগণের সামনে এসে এটার সুরাহা চাওয়া উচিৎ। আমরা কেউই কিন্তু এর জন্য দায় এড়াতে পারি না’।
এ ধরনের ঘটনার পর কমিউনিটি এমনকি মসজিদের ওপর বেশ কয়েকবার বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রুশনারা আলী এমপি।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাবেক শ্যাডো মন্ত্রী রুশনারা আলী এমপি বলেন, ‘মসজিদের ওপরে হামলা অনেক সময় হয়েছে। তার জন্য পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত আমার যোগাযোগ আছে পাশাপাশি লন্ডন মেয়রের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ আছে। যেভাবেই হোক নিরাপত্তার দেয়া দরকার, কমিউনিটিকে রক্ষা করা দরকার’।
একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার পর ব্রিটেনজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১ হাজার সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সময় টিভি
