স্টাফ রিপোর্টার ॥

গাজীপুর: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশ নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়ে রবিবার শেষ দিনের প্রচারণা চালিয়েছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রধান দুই প্রার্থী আওয়ামীলীগের মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েই আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচন। আজ রবিবার প্রচার-প্রচারণা শেষ দিনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সর্ম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি শেষ করেছেন। আগামীকাল সোমবার দুপুর থেকেই ভোট কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ যাবতীয় নির্বাচনী সমঞ্জাম পাঠানো হবে। এদিকে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে প্রায় ১২ হাজার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিজিবি টহল দিতে শুরু করেছে।
এদিকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আজ রবিবার রাত ১২টা থেকে সবধরণের নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর নজরদারি করছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের আগের দিন সোমবার থেকে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসারসহ প্রায় ১২ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মাঠে থাকবে। স্থানীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকী ৮৮টি কেন্দ্র সাধারণ বলে চিহিৃত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর জন্য ২৪ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রের জন্য ২২ জন করে সশস্ত্র পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া থাকবে পুলিশের টহল দল ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দারা। সব মিলিয়ে ভোটের দিন প্রায় ১২ হাজার নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্ব পালন করবে।
রিটার্নিং অফিসার রকিবউদ্দিন মন্ডল জানান নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালন পর্যবেক্ষণ ও নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীকে তাৎক্ষণিক সাজা দিতে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা কেন্দ্রে একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। অপরদিকে ১৯টি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, ১০টি র্যাবের টহল টিম এবং ২৯ প্লাটুম বিজিবি মোতায়ন থাকবে।
এদিকে গত ১৮ জুন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়। নির্বাচনে সাতজন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের মধ্যেই মূলত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণার শেষ দিনে ছিলো উৎসব মুখর পরিবেশে। প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের প্রচার প্রচারণায় মিছিল আর শ্লোগানে নিজ নিজ এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম জোর আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশংকা রয়েছে বলে তিনি জানান। আজ রবিবার বিকালে আওয়ামীলীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম তার নগরীর ছয়দানার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি প্রার্থী ভোটারদের কাছে ভোট না চেয়ে নানান অযোক্তিক অভিযোগ করে চলছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর বিএনপির নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা বা হামলা করা হয়নি। অথচ তিনি মিথ্যা কথা ও অজুহাত তুলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করছেন। এমনকি পোলিং এজেন্ট নিয়োগ না করেই তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার কাল্পনিক অভিযোগ করতেও পিছ পা হচ্ছেনা। তিনি বলেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারে আছেন। তার সহযোগিতা নিয়ে যারা নির্বাচনে আমাকে সমর্থন দিয়েছেন তাদেরসহ সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে গাজীপুর মহানগরীর সার্বিক উন্নয়ন সম্পন্ন করব। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ যাবত নির্বাচনী আচরন বিধি লঙ্ঘনের একটি উদাহরণ বিএনপির প্রার্থী দিতে পারবেন না। তিনি আমাকে, আমার পরিবার, দল ও প্রতীককে যে ভাষায় আক্রমন করে কথা বলেছেন তা তাঁর মতো সিনিয়র ব্যক্তির কাছে আশা করি না।
তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা সাংসদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার সাজা হয়েছে হাসান সরকারের ভাই নুরুল ইসলাম সরকারের। আদালতে তাঁকে ফাঁসির দ- দিয়েছেন। এই খুনী পরিবার এখন মানুষের কাছে ভোট চাইছে। এসময় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমণ¦য়ক ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আজমত উল্লাহ খান, সহসভাপতি এ্যাড. ওয়াজউদ্দিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
জাহাঙ্গীর আলম মহাগরীর সালনায় আজ রবিবার সকালে প্রচারণার শেষ দিনের প্রথম কর্মসূূচি শুরু করেন। তিনি বলেন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ব্যাপক জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গাজীপুরের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিবেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন গাজীপুরের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবেন না।
পরে তিনি কোনাবাড়ি, বাসন এলাকার চান্দনা-চৌরাস্তায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এখানে জাহাঙ্গীর আলম বলেন এ অঞ্চলেই আমি বেড়ে উঠেছি। নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। এখানকার মানুষের ভোট পাওয়া আমার অধিকার। তাদের ভালোবাসাতেই আজ আমি জাহাঙ্গীর আলম হয়েছি। আপনাদের জন্যই ঐতিহ্যবাহী আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী হতে পেরেছি। আপনারা নিশ্চয়ই আমার এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মান রাখবেন।
বাসনের পথসভায় জাহাঙ্গীর বলেন, গাজীপুরে এখন হাঁটা চলার মতো রাস্তাঘাট নেই। বর্তমান মেয়র কিছুই করেন নি। তিনি বলনে, এই অনুন্নয়েন কোনো মানে হয় না। আমি এর অবসান চাই।
এখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছেন। নির্বাচিত হলে তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে তা বাস্তবায়নের কথা তিনি বলবেন।
বিকালে জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর শহরের শিববাড়ি এবং আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে, টঙ্গী মিলগেট, গাছা বাজার ও বোর্ডবাজার এলাকায় পথসভায় বক্তব্য দেন। জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে সকালে মহানগর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি এ্যাড. আমজাদ হোসেন বাবুল ও এ্যাড. আমানত হোসেন খানের নেতৃত্বে আইনজীবীরা আদালত পাড়ায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। এছাড়া শহরে দলীয় নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ছাড়াও প্রচারণায় অংশ নেন আওয়ামীলীগ নেতা কাজী আলিমুদ্দিন, আব্দুর রউফ নয়ন, এ্যাড. ওয়াজউদ্দিন মিয়া, এ্যাড. আমানত হোসেন খানসহ নেতৃবৃন্দ প্রচার কাজে অংশ নেন।
