বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসাচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন এক আন্দোলন দেখছে বাংলাদেশ।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা ওই আন্দোলনে রোববার থেকে কার্যত অচল হয়ে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। পথে পথে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এতে মানুষকে সেভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি ব্যাপকভাবে মানুষের সমর্থন দৃশ্যমান।
সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন এর আগেও বাংলাদেশে হলেও এবারেরটাকে আলাদা করেই দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের তুলনায় অন্য দেশের সড়ক আসলে ঠিক কতটা নিরাপদ? বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ ২০১৫ সালে যে ‘গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি’ প্রকাশ করেছিল তাতে দেখা যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার আসলে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতেই বেশি, আর বাংলাদেশ তার অন্যতম।
ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে একটি তালিকাও জুড়ে দেয়া হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে যেসব দেশে তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম।
তালিকায় বাংলাদেশের ওপরে যেসব দেশ রয়েছে সেগুলো হলো- চীন, ভারত, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান ও থাইল্যান্ড।
ওই একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো তুলনা হতেই পারে না।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান বলছে পশ্চিমা দুনিয়ার বেশিরভাগ উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মতো দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার প্রায় আড়াই গুণ বেশি।
বলা হচ্ছে, এখানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কিন্তু ভারত, চীন বা মেক্সিকোর মতো জনবহুল দেশগুলোর সঙ্গেই তুলনীয়। এসব দেশে প্রতি লাখে জনসংখ্যায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার যত, বাংলাদেশের পরিসংখ্যানও মোটামুটি তার কাছাকাছি।
তবে ‘হু’র একটি সমীক্ষায় এ কথাও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া মুশকিল।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে শহরের রাস্তায় অনেক দুর্ঘটনা ঘটলেও বেশির ভাগ দুর্ঘটনাই কিন্তু ঘটে জাতীয় বা আঞ্চলিক স্তরের হাইওয়ে বা মহাসড়কগুলোতে। যেমন, ২০১২ সালে ঢাকার চেয়েও বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল কুমিল্লায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে বলা হচ্ছে, সারা বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মারা যান তার অর্ধেকই কিন্তু গাড়ির আরোহী নন। এদের মধ্যে ৪৯ শতাংশই আসলে পায়ে-হাঁটা পথচারী, কিংবা সাইকেল বা মোটরবাইকের আরোহী। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
জাগো নিউজ ডেস্ক
