বিনোদন ডেস্ক ॥ “মেলেনা” এক লাস্যময়ী, অপার সৌন্দর্যের অধিকারী নারীর দুর্ভাগ্যের অনবদ্য বর্ণনা। পুরো মুভির ঘটনা এই সৌন্দর্যের অভিশাপ কে নিয়েই গড়ে উঠে, পরিচালক কিন্তু সিনেমাটির এই বিষয়বস্তু কে প্রদর্শন করেছেন খানিকটা হাস্যরস, অতীতবিধুরতা আর খানিকটা তেঁতো মনস্তাপের ভঙ্গীতে। পুরো ছবিটা বলতে গেলে মনিকা বেলুচ্চি’র (মেলেনা) অভিনয়েরগুণের মাত্রাতিরিক্ত শৈল্পিক প্রদর্শন।
প্রেক্ষাপটঃ
কোন এক ইতালীয়ান শহর, সাল ১৯৪০। একদল কিশোর মেলেনা’কে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসে অপেক্ষার প্রহর গুনছে। একজন অসংলগ্ন কল্পনার উদ্রেককারী নারী যা হতে পারে মেলেনা তাদের কাছে ঠিক তাই। মেলেনা এক স্কুলটীচার, একজন পুরুষের মনে তাকে দেখে কি ভাবের উদ্রেক হতে পারে, এতটুকু অবগতি তার আছে। কিন্তু পুরুষের মনের উদ্রেক ঘটানোয় তার অবদান সামান্যই।
ছবির শুরুতেই কাহিনির বর্ণনা করতে থাকে “রেনাতো” (এরঁংবঢ়ঢ়ব ঝঁষভধৎড়)। যে কিনা স্থানীয় একটি “নারীদেখা কমিটি”র (ফাজিল পোলাপানের দল) সদস্য। আর মেলেনা হল তাদের গ্রুপের অবসর সময় কাটানর মানসম্মত উপকরন। আগে বার্ড-ওয়াচিং অবসর কাটানর উপায় সম্পর্কে অল্পবিস্তর ধারনা ছিল এই ছবি দেখার পর গার্ল-ওয়াচিং সম্পর্কেও ধারনা হয়ে গেল। কিন্তু রেনাতো’র জন্য মেলেনা যেন এক স্বপ্নের মতো, অথবা বলা যেতে পারে এক সিনেমার মতো, যে সিনেমার নায়ক রেনাতো নিজে আর মেলেনা তার স্বপ্নের নায়িকা, যাকে সে বীরের মতো রক্ষা করতে চায়, চায় তার আরো কাছে যেতে, তাকে জানতে, তাকে বুঝতে, তার হাতে হাত রাখতে, কখনোবা তার মনের জানালার একমাত্র জীবন্ত দৃশ্য হতে।
মেলেনা’র স্বামী যখন যুদ্ধের জন্য মেলেনাকে একা রেখে যায় সেই তখন থেকেই মেলেনা’র অসীম দুর্ভাগ্যের শুরু। আর সেই তখন থেকেই তার নামটাই যেন এক কলঙ্কিত কালিমা। তাকে তার শিক্ষকতার চাকরিটাও হারাতে হয় ওইসব অপ্রতিপাদ্য কেলেঙ্কারির জন্য। আর তারপর আর্থিক অসচ্ছলতার শিকার হয়ে জার্মান সৈনিকদের সাথে ডেট ও করতে হয়। এভাবেই প্রদর্শিত হতে থাকে মেলেনা’র দুর্দশার চিত্র।
মুভিকে মনিকা বেলুচ্চি’র দেহসৌষ্ঠব এর অপূর্ব নিদর্শন বললেও ভুল বলা হবে না। একথা বলছি ক্যান? কারন ওই ভদ্র সমাজের গ্যাঁড়াকলে পিষ্ট হয়ে মেলেনাকে উন্মুক্ত দেহেই কাটিয়ে দিতে হয়েছে ব্যাপক একটা সময়। বলাই বাহুল্য, পরিচালকের ক্যামেরায় কিন্তু মেলেনা এই রুপ লাবণ্য বেশ ভাল ভাবেই মূল্যায়ন করা হয়েছে। ক্যামেরা তো ক্যামেরা, ৩৫ মিলিমিটারের ফিল্ম গুলার সৌভাগ্যে আমি ঈর্ষায় জ্বলেপুড়ে অঙ্গার হয়ে গেলাম। আর এ কারনেই বোধহয় রেনাতো’র চোখে দীপ্তিময় আভা হয়ে থাকে মেলেনা। আর এই কারনেই রেনাতো’র বাবা তার ছেলের দুর্দশা থেকে ছেলেকে মুক্তি দিতে, রেনাতো কে নিয়ে যায় পতিতালয়ে, আর ওখানে গিয়ে যা একখান ডায়লগ ঝাড়ে না; “ও মরাব ুড়ঁ ঃযব নড়ু ৃ.. এরাব সব নধপশ ঃযব সধহ.” কিন্তু মেলেনার রূপে ঝলসে যাওয়া রেনাতো’র চোখ আর হৃদয় এর এক চিলতেও রূপান্তর হয় না।
মেলেনা এক অনলংকৃত চলচ্চিত্র, যেখানে একটি সদ্য কৈশোরে পদার্পণকারী ছেলে এক নারীর মোহে আবিষ্ট হয়ে মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেই নারীর ধারণাবহন করতে থাকে। কাহিনির সমাপ্তিটা কিন্তু মেলেনা কিংবা রেনাতো কারো জন্যেই সুখকর ছিলনা। সমাপ্তিটা মনে এক ধাক্কার জন্ম দেয়। এক কথায় এটি একটি ছেলের কৈশোরে নারী নিয়ে অম্লমধুর অভিজ্ঞতা অপর দিকে এক নারীর জীবনের বেদনাবিধুর অভিশপ্ত দুর্ভাগ্যের আঁচর যেন।
