স্টাফ রিপোর্টার ॥ পবিত্র ঈদুল আযহার পর রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনী পণ্যের দরদামে তেমন একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করানি ।বেরেই চলেছে চাল ও পেঁয়াজের দাম, চিনি ও ডালের দামও বাড়তি, তবে কাঁচা মরিচ, মাছ ও সবজির দাম কিছুটা কমেছে ।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা ও চিকন চালে কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। নগরীর অন্যতম চালের আড়ত বাদামতলীতে গিয়ে দেখা যায় খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মোটা ও চিকন চাল।
কেজি প্রতি ৩ টাকা বেড়ে মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, কেজি প্রতি ৪ টাকা বেড়ে নাজিরশাইল ৪৯ থেকে ৫৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিআর আটাশ চালেও কেজি প্রতি ২ টাকা বেড়ে ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বেড়ে পারিজা ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, গুটিচাল ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, লাল স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা এবং মোটা চাল ৩২ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শ্যামবাজার, নিউমার্কেট, পলাশী, আজিমপুর, মোহাম্মদপুর ও কারওয়ানবাজার ঘুরে চালের দামে একই চিত্র দেখা গেছে।
ঈদের পর হঠাৎ করে চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে বাদামতলীর চালের আড়তদাররা বলছেন চাল বিক্রির তুলনায় বাজারে চালের ট্রাক ঢুকছে কম।
চালের দাম বাড়া প্রসঙ্গে চালের মিল মালিকরা বলছেন, ঈদ ও পূজা উপলক্ষে মিল বন্ধ থাকায় চালের দাম বেড়েছে। এছাড়া পুরাতন ধান ফুরিয়ে গেছে। নতুন ধান কৃষকের ঘরে না ওঠা পর্যন্ত চালের দাম আরও বাড়বে বলে জানান মিল মালিকরা।ঈদ ও পূজা উপলক্ষে অনেক চালের মিল ১০ থেকে ১২ দিন বন্ধ ছিল। এতে করে চালের উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যার প্রভাবে নগরীতে মোটা চালের দাম কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। এছাড়া মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে।
চাল দাম বাড়া প্রসঙ্গে বগুড়া সান্তাহারের মেসার্স রহমান অ্যান্ড সন্স অটো রাইচ মিলের মালিক আতিকুর রহমান মিলন বলেন, ঈদ ও পূজা উপলক্ষে চালের মিল ১০ থেকে ১২ দিন বন্ধ ছিল। ঈদের আগে যে চালের উৎপাদন হয়েছিল তা বিক্রি হয়ে গেছে। এখন প্রয়োজনের তুলনায় চাল উৎপাদন কম।
তিনি বলেন, চালের চাহিদা এখন অনেক বেশি। চালের মিলগুলো পুরোদমে চাল উৎপাদন শুরু না করলে চালের দাম বাড়তে থাকবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে চালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া কৃষকরা হাটে ধান কম নিয়ে আসছেন, যেগুলো নিয়ে আসছেন তা-ই আমাদের বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
এদিকে, ঈদের পরও কমেনি পেঁয়াজের ঝাঁঝ। এই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যটি কয়েক মাস ধরে ক্রেতাদের ভোগাচ্ছে। ঈদের পরে পেঁয়াজের দাম কমার কথা থাকলেও বরং বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। নিউমার্কেটের কিছু খুচরা দোকানে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া. ভারতীয় মোটা নাসিক পেঁয়াজ ৯৫ ও বার্মিজ পেঁয়াজ ৯০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
শ্যামবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রয়োজনের তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি অনেক কম। পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৯২ টাকা এবং মোটা পেঁয়াজ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঈদুল আযহার আগের দিন হঠাৎ করে কাঁচা মরিচের দাম প্রতিকেজিতে প্রায় ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বেড়ে গেলেও ঈদের পর বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে। ঈদের আগের দিন নগরীতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, কেজি প্রতি আবারও ২ টাকা বেড়ে ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে চিনি।
তবে, সব ধরণের মাংসের দামের সঙ্গে কমেছে ডিমের দামও। প্রতি কেজি ব্রয়লার দাম ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ও ছাগলের মাংসের কেনাবেচা নেই বললেই চলে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ২৭০ টাকা ও ছাগলের মাংস ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে নগরীতে।
স্থিতিশীল আছে তেল ও আটা ময়দার দাম। পলাশী কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজির দাম কিছুটা কমেছে। প্রতিকেজি বরবটি ৬০, টমেটো ১০০, পটল ৩০, শসা ৪০, মূলা ৪০, ঢ্যাড়স ৫০, বেগুন ৪০ থেকে ৫০, ঝিঙা ৪০, চিচিঙা ৪০, পেঁপে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া প্রতিটি ফুলকপি ২০ ও বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের পরে কিছুটা কমেছে মাছের দাম। প্রতিকেজি তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মাঝারি রুই ২৪০, সরপুটি ২০০ ও কই মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চায়না রসুনের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে দেশি রসুনের দাম। প্রতিকেজি দেশি রসুন ৮০ ও চায়না রসুন ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি আলু ১৫ টাকা, হলুদ ১৪০, শুকনা মরিচ ১৭০ ও চায়না আদা ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের পর বেড়েছে মোটা ও চিকন দানা মশুরডাল। প্রতি কেজি চিকন দানা দেশি মশুর ৫ টাকা বেড়ে ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিকন দানা ক্যাঙ্গারু মশুরডাল ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মোটা দানা মশুরডালে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম কমে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে ছোলা।
