বিনোদন ডেস্ক ॥ আত্মহত্যা করেছিলেন বলিউডের অভিনেত্রী জিয়া খান। মৃত্যুর পরও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি এ অভিনেত্রীর।
নিজ বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করার সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলিউডের অভিনেত্রী জিয়া খান। সম্প্রতি কালিনা ফরেনসিক ল্যাবরেটরির পরিচালক এম কে মালভির উদ্ধৃতি দিয়ে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য প্রকাশ করেছে জিনিউজ।
এম কে মালভি জানিয়েছেন, সম্প্রতি জিয়ার ফরেনসিক রিপোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত ৩ জুন রাতে আত্মহত্যা করার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন। তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের অস্তিত্ব ধরা পড়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন এম কে মালভি।
প্রসঙ্গত, বলিউডের উঠতি অভিনেত্রী জিয়া খান গত ৩ জুন রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। সুইসাইড নোটে নিজের মৃত্যুর জন্য প্রেমিক সুরজ পাঞ্চোলিকে দায়ী করে যান তিনি। জিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ভারতীয় পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলিউডের অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরজকে। ২১ দিন কারাবন্দী থাকার পর ১ জুলাই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সুরজ। ১৯৮৩ সালে মুক্তি পাওয়া সুভাষ ঘাইয়ের ‘হিরো’ ছবির রিমেকে অভিনয়ের মাধ্যমে শিগগির বলিউডে পা রাখতে যাচ্ছেন সুরজ।
জিয়া খান শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম অভিনয় করেছিলেন ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিল সে’ ছবিতে। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০০৭ সালে অভিনয় করেন রাম গোপাল ভার্মার ‘নিঃশব্দ’ ছবিতে। এ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে অভিনয় করে সবার নজর কাড়েন জিয়া। পরে অভিনয় করেন ‘গজনি’ (২০০৮) ও ‘হাউসফুল’ (২০১০) ছবিতে। বলিউডে ডুবন্ত ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক দিন থেকেই হতাশায় ভুগছিলেন জিয়া খান। আট মাস আগে একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কবজির রগ কেটে মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করলেও সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছিলেন এ উঠতি অভিনেত্রী।
এক বছর ধরে সুরজের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল জিয়ার। কিন্তু সুরজ অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে প্রতারণা করেন জিয়ার সঙ্গে। মৃত্যুর কিছুণ আগেও ফোনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল সুরজ ও জিয়ার মধ্যে। ছয় পৃষ্ঠার বিশাল সুইসাইড নোটে সুরজ সম্পর্কে গুরুতর বিভিন্ন অভিযোগ করে গেছেন জিয়া। তার মধ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, প্রতারণা, ধর্ষণ ও গর্ভপাতে বাধ্য করানোর মতো বিষয়ও ছিল।
