Skip to content

কয়েদির পোশাকে ভেঙ্গে পড়েছেন মুজাহিদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে ঘাতক আলবদর বাহিনীপ্রধান, জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ফাঁসির রায় শুনে ঘাবড়ে গেছেন। আপন মনে বিড় বিড় করে কী যেন বলছেন। খুবই চিন্তিত ও বিচলিত মনে হয়েছে তাকে। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের দায়ে তার ফাঁসির রায় হওয়ার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে নেয়া হলে তার মধ্যে এই অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। সাদা পাঞ্জাবি ও পায়জামা খুলে কয়েদির পোশাক পরিয়ে কনডেম সেলে নেয়ার পর অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছেন মুজাহিদ। এই প্রথম কোন মন্ত্রীকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়ার কয়েদি হিসেবে গ্রহণ করেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাকর্তৃপ।

কারাকর্তৃপ সূত্র জানায়, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মতায় আসার পর আলবদর বাহিনীর প্রধান কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বানানোর পর তার বাড়িতে-গাড়িতে উড়েছে জাতীয় পতাকা।’ জাতীয় পতাকা লাগিয়ে ‘অবিশ্বাসী’ মুজাহিদ চষে বেড়িয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশে। যে ব্যক্তিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে গিয়ে আলবদর বাহিনী গঠন করে স্বাধীনতাকামী মানুষজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই ব্যক্তিটিই জাতীয় পতাকা উড়িয়ে দম্ভোক্তির সুরে বলেছিলেন, ‘দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই, পাস্ট ইজ পাস্ট।’ স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী হয়েও যেমন মন্ত্রী হয়েছিলেন তেমনি প্রথমবারের মতো একজন মন্ত্রী হয়েও ফাঁসির আসামি হিসেবে কয়েদির পোশাক পরে কনডেম সেলে ঢুকেছেন।

সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আনার জন্য বের করা হয় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে। তাকে রাখা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে। রায় ঘোষণার আগের দিন তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে আনা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনার পর তিনি জানতে পারেন আরেক যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ফাঁসির রায়ের পরিবর্তে ৯০ বছরের সাজা হয়েছে। এই রায় শোনার পর তার অন্তত ফাঁসি হবে না এমনটাই ভেবে নিয়েছিলেন মুজাহিদ। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আনার পর তার নিকটজনদের কাছে এ ধরনের কথা জানিয়েও ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার সময়ে আসা তার তিন পুত্রসহ আত্মীয়স্বজনদের তিনি নিজেই চিন্তা না করার জন্য বলেছিলেন। ফাঁসির রায় ঘোষণার পরও কাউকে তার মনের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে দেননি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে কয়েদির পোশাকে ঢোকানোর পর পরই তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা বলেছেন, কারাকর্তৃপ এই প্রথমবারের মতো কোন সাবেক মন্ত্রীকে মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত ফাঁসির আসামি হিসেবে গ্রহণ করেছে। তার ফাঁসির আদেশ দেয়ার পর কনডেম সেলে এনে তাকে ইফতার ও সেহরি দেয়া হয়েছে। তবে তিনি কোন কথা বলছেন না। কী যেন বিড় বিড় করে বলছেন।

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল ভার্সিটির সাবেক (পিজি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মজিদ ভুইয়া বুধবার জানিয়েছেন, প্রিজন সেলে থাকা ৯০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গোলাম আযম লাইফ সাপোর্টে রাখার মতো অসুস্থ নন। পিজির কনডেম সেলে কোন লাইফ সার্পোট সরঞ্জামাদি নেই। তাকে গোশত, ডিম, মাছসহ নানা ধরনের খাদ্য দেয়া হচ্ছে। তিনি কারও সাহায্য ছাড়া একাই হাঁটাচলা করতে পারেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গোলাম আযমকে গ্রেফতার করার পর থেকেই বঙ্গবন্ধু প্রিজন সেলে রাখা হচ্ছে। তাকে যখনই ডিসচার্জ করা হবে তখনই কয়েদিদের সঙ্গে রাখা হবে। নিয়ম অনুযায়ী কয়েদিদের যে ধরনের কাজ দেয়া হয় গোলাম আযমকেও তেমনি কারাগারের ভেতরে কাজ করতে দেয়া হবে। মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত ফাঁসির আসামি মুজাহিদকে যে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করে সতর্ক নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫