স্টাফ রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, রায় ঘোষণার পর একটি প্রবণতা দেখা যায়। তাহলো রায় প্রত্যাখ্যান করা। রায়ের পরে অনেকে সংুব্ধ হন। তাদের আপিল করার সুযোগ আছে। কিন্তু কেউ রায়কে প্রত্যাখ্যান করতে পারে না এটা আদালত অবমাননার শামিল।
বুধবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার পূর্বে সূচনা বক্তব্যে এজলাসে উপস্থিত পর্যবেক, সংবাদকর্মী ও অন্যান্যের উদ্দেশে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান একথা বলেন। এ সময় রায় বিষয়ক টকশোতে অংশগ্রহণকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের মনে হয়, তারা জাজমেন্ট না পড়েই মন্তব্য করেন। এরপর রায় পড়া শুরু হয়।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, আমরা কিছু কথা বলতে চাই। যা খুবই প্রয়োজনীয়। রায় ঘোষণার দিন ধার্য হলেই সেদিন একটি হরতাল দেয়া হয়। হরতালের কারণে ওইদিন আসামিপরে কোনো সিনিয়র আইনজীবী নিরাপত্তার কথা বলে ট্রাইব্যুনালে আসেন না। অথচ তাদের দায়িত্ব রায় ঘোষণার দিন আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত থেকে রায়ের কপি গ্রহণ করা। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার পর একটি প্রবণতা দেখা যায়। তাহলো রায় প্রত্যাখ্যান করা। এটা করা উচিত নয়। আমরা সুপ্রিম কোর্ট থেকে এখানে এসেছি। আমরা শপথ নিয়েছি যে রাগ-বিরাগ কিংবা আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো বিচার করব না। আমরা আল্লাহকে হাজির নাজির জেনেই রায় দেই। তাই রায় প্রত্যাখ্যান করার মতো আচরণ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।
ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বলেন, রাত যত গভীর হয় সকাল তত এগিয়ে আসে। একথা আমরা উভয়পকে বলছি, আপনারা এমন কোন কাজ করবেন না যাতে আদালতের সম্মানহানি হয়। আমরা দেখেছি বিভিন্ন রায়ের পরে টেলিভিশনে টকশো হয়। আমার মনে হয়, মামলার রায় নিয়ে টেলিভিশনের টকশোতে যারা আলোচনা করেন তারা জাজমেন্ট না পড়েই মন্তব্য করেন।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, অনেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফাঁসি চেয়ে শ্লোগান দেন। অনেকে ত্রিপীয় চুক্তি নিয়ে কথা বলেন। বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু কাদের মোল্লার মামলায় ত্রিপীয় চুক্তির বিষয়ে বিচারিক অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সমর্থন করলে এ বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। যারা কথা বলেন তাদের মনে রাখতে হবে বিষয়টি বিচারাধীন। আমরা সবকিছুর জবাব দিতে পারি না। আমরা এখানে কথা বলতে পারি তাই এখানেই কথা বলছি। একটি কথা মনে রাখতে হবে, আদালতের হাত অনেক লম্বা। আদালতের ওপর আঘাত করলে তারা বাংলাদেশের সীমানার যে প্রান্তেই থাকুন না কেন তাদের জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারে আদালত। এই ট্রাইব্যুনাল এবং বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সে মতা রাখে।
