বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ মিশরের রাজধানী কায়রোতে পদচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি এবং সেনাবাহিনীর প থেকে বিােভ সমাবেশ আহ্বানকে কেন্দ্র করে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মুরসিকে স্বপদে বহাল করার দাবিতে শুক্রবার মিশরজুড়ে ডাকা মুসলিম ব্রাদারহুডের বিােভ সমাবেশকে ঘিরে যে কোন ধরনের ‘সহিংসতা দমনের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে মুরসিকে ফিলিস্তিনের বিদ্রোহী সংগঠন হামাসের সঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্তে ১৫ দিনের আটকাদেশ দেয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। গত ৩রা জুন মুরসির মতাচ্যুতির পর থেকেই লাগাতার বিােভ করে আসছে ব্রাদারহুড। এরই ধারাবাহিকতায় তারা শুক্রবারও বড় ধরনের বিােভ সমাবেশের ডাক দেয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যথারীতি শুক্রবারের জুমার নামাজ আদায় করার পরই রাজপথে নামে মুরসি সমর্থকরা। এর আগে গত বুধবার সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ‘সন্ত্রাস দমনে’ জনসমর্থন চেয়ে মুরসি বিরোধীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানান। এক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন সামরিক বাহিনী ব্রাদারহুডকে বিােভ পরিহার করতে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে নতুন করে নির্বাচনের জন্য সামরিক বাহিনীর রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ব্রাদারহুডের প থেকে বলা হয়েছে সামরিক বাহিনীর কোন পরিকল্পনার ব্যাপারে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। সামরিক প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি নিজেই ৪৮ ঘণ্টার সময় সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এ সময় সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর সহিংসতা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করার কৌশল পরিবর্তন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অবশ্য সিনিয়র আরেক সামরিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ওয়েবসাইটে এ বিবৃতি দেয়া হলেও এর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম আসলে একটি রাজনৈতিক আমন্ত্রণ। এর অর্থ এই নয় যে, সময়সীমা পেরিয়ে যাবার পর ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। মিশরে মাসব্যাপী সহিংসতায় প্রায় ২০০ ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর সামরিক বাহিনী এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের প থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জের ধরে শুক্রবার মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়। বিােভে সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছিল সেনাবাহিনী। ফেইসবুকে দেয়া এক পোস্টে সেনাবাহিনী বলেছে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে চান না। তবে তারা সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংসতার েেত্র ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। কারণ, সন্ত্রাসবাদ বা সহিংসতার কোন জাতি বা ধর্ম নেই। মিশরের এক সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, প্রথমে আমরা কোন পদপে নেব না। ব্রাদারহুডের নেতা বা সমর্থকরা যদি কোন ধরনের সহিংসতার আশ্রয় নেন তাহলে আমরা সেটা কঠোরভাবে দমন করবো। সামরিক বাহিনী সমর্থিত মুরসিবিরোধী যুব সংগঠন বলেছে মিশরকে জঞ্জাল মুক্ত করতেই তারা রাস্তায় নামবে। জুমার নামাজের পর এ বিােভ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইফতারের শেষে সেটা প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। মিশরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে দেশের জনগণ এবং জানমাল রায় তারা অভূতপূর্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে। এ দিকে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মুরসি ও ব্রাদারহুড নেতাদের মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। জাতিসংঘের মুখপাত্র এডুয়ারডো ডেল বুয়ে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে উভয় পকে সমঝোতা সংলাপে বসার জন্যও মহাসচিব দু’পরে প্রতি আহ্বান জানান।
মুরসির মতাচ্যুতি নিয়ে মন্তব্য নয়: যুক্তরাষ্ট্র
মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে মতাচ্যুত করার ঘটনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন সিদ্ধান্ত জানাবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকারের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন। মিশরে সেনা অভ্যুত্থান ঘটেছে কিনা সে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনও সিদ্ধান্ত দেয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় পড়ে না। আর এ ধরনের সিদ্ধান্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের মধ্যে পড়ে না বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র মুরসিকে মতাচ্যুতির ঘটনাকে ‘ক্যু’ বললে মিশরকে দেয়া সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে হবে। ওই কর্মকর্তা জানান, বার্ষিক ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ মিশরকে সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ সহায়তা যুক্তরাষ্ট্র্রের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য প্রয়োজন।
