Skip to content

সীমান্তে অপরাধ বাড়ছে

নীলফামারী প্রতিনিধি ॥ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্তে বাংলাদেশের ২ থেকে ৭ কিলোমিটার ভিতরেও মিলছে ভারতের মোবাইলফোনের নেটওয়ার্ক। এর ফলে সীমান্তে তৎপর অপরাধী চক্র বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। আর এতে করে বাড়ছে আন্তঃদেশীয় অপরাধ কার্যক্রম। অপরাধীরা সহজেই ভিন দেশের মোবাইলফোন ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ তৎপরতা। কর্তৃপরে নজরদারির অভাবে দিন দিন বেড়েই চলছে ভিনদেশী হ্যান্ডফোন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের প্রবণতা। এর মাধ্যমে দু’দেশের অপরাধীদের মধ্যে গড়ে উঠছে গভীর সখ্যতা। সেেেত্র আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে যাচ্ছে অন্ধকারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলফামারী জেলার দুটি সীমান্তবর্তী উপজেলা ডোমার ও ডিমলাসহ সীমান্তবর্তী অনেক এলাকায় ভারতীয় মোবাইলফোনেই স্থানীয়রা বেশি কথা বলছে। এসব এলাকায় বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরের সংযোগ মিললেও নেটওয়ার্ক হয়ে পড়ে দুর্বল। আবার কোথাও কোথাও ভারতীয় অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক এবং স্পেকট্রামের মধ্যেও সাংঘর্ষিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এদিকে ভারতীয় কর্তৃপ বাংলাদেশকে চাপে রাখতে বিজিবি’র মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশের অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্কই নাকি সেদেশের অভ্যন্তরে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত রয়েছে। এ কারণে স্পেকট্রামের সাংঘর্ষিক প্রতিক্রিয়ার (ইন্টারফেয়ারেন্স) অভিযোগ আনে ভারতীয় কর্তৃপ। আবার বাংলাদেশী অপারেটররাও সীমান্তে ভারতীয় মোবাইলফোনের ইন্টারফেয়ারেন্স পাচ্ছে বলে অনেকের অভিমত। তবে বাস্তব অবস্থা বিস্তারিত জানতে কোনো মোবাইল কোম্পানি এ অঞ্চলের সীমান্তে টেকনিক্যাল জরিপ চালায়নি।

তিনটি ভারতীয় মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে সীমান্ত এলাকায় দেশীয় কোম্পানির মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা ধরা পড়ে। ভারতের বিএসএনএল, রিলায়েন্স, ভোডাফোনের স্পেকট্রামের কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোয় স্পেকট্রামের সমস্যা বাড়াচ্ছে। কার্যত, সীমান্তবর্তী এলাকায় টাওয়ার বা বেস স্টেশন নির্মাণের েেত্র ভারতীয় মোবাইলফোন অপারেটররা কোনো নিয়মই মানেনি। সীমান্তের খুব কাছাকাছি টাওয়ার স্থাপন করায় সমস্যা বেশি হচ্ছে। সীমান্তের অনেক এলাকায় দু’দিকের মোবাইলফোনের নেটওয়ার্ক এমন হয়ে গেছে যে, একটি অন্যটির উপর ওভার ল্যাপ করে। এছাড়া দুই প্রতিবেশী দেশের অপারেটররা একই ব্র্যান্ডের স্পেকট্রাম ব্যবহার করায়ও সমস্যা জটিল হয়ে উঠেছে।

এ সমস্যার কারণে কখনো কখনো সীমান্তবর্তী এলাকায় দেশী মোবাইলে কথা বললেও সেটি ভারতীয় মোবাইলফোনের নেটওয়ার্ক হয়ে আসে। যার কারণে সেটি রোমিং কল হিসেবে গণ্য হয়। অনেক সময় সীমান্ত এলাকায় যত কথা বলা হচ্ছে সবই রোমিং কল হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে গ্রাহকদের গুণতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে পর্যন্ত দু’দেশের সীমান্তের বেশ দূরেই বিটিএস বসানোর অনুমোদন ছিল। ভারতীয় সীমান্তের ১০ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশে ৮ কিলোমিটার দূরে বিটিএস বসানো হতো। ভারত কোনো ঘোষণা না দিয়েই এ নিয়ম শিথিল করে সীমান্তের একেবারে কাছে চলে আসে। পরে বিটিআরসিও নীতিমালা শিথিল করে সীমান্তের এক কিলোমিটারের মধ্যে বিটিএস বসানোর অনুমোদন দেয়। বর্তমানে এ নিয়মও মানা হচ্ছে না।

জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সীমান্ত ঘেঁষে টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। ফলে সহজেই ভারতীয় সীমান্তে বসেই এ দেশের মোবাইলফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। এ কারণে চোরাচালানের েেত্রও এ সংযোগ ব্যবহার হচ্ছে। ভারতের বিভিন্ন এলাকায় যাওয়া অনেক বাংলাদেশী জানান, ভারতের সীমান্ত থেকে অন্তত দুই কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত সহজেই গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবিসহ অন্যান্য অপারেটরের সংযোগ মেলে। তবে সবচেয়ে বেশি সংযোগ পাওয়া যায় এয়ারটেল সিমের সাহায্যে।

সীমান্তবাসীর অভিযোগ, ভারতীয় মোবাইলফোন অপারেটরগুলো নানাভাবে সীমান্তের উপর প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এর ফলে বাংলাদেশীরা সার্বিক দিক থেকে তিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের যথাযথ কর্তৃপরে কাছে এ অবস্থা নিরসনে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সীমান্তের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫