বাংলাভূমি২৪ডটকম ডেস্ক ॥
মতাচ্যুত করার পর মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। তাকে একটি সেনা স্থাপনায় আটকে রাখা হয়। মুরসির শীর্ষ সহযোগীরাও তার সঙ্গে আটক রয়েছেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা এ তথ্য জানান বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
বৃহস্পতিবার বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে মতাচ্যুত মুরসিকে আটক করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসরে সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, একটি নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান স্থগিত থাকবে। এই ঘোষণা একটি বার্তাই বহন করছে, প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি আর রাষ্ট্রমতায় নেই। আর মুসলিম ব্রাদারহুড জানাচ্ছে, মোহাম্মদ মুরসিকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার মধ্যরাতে এক খবরে বিবিসি জানায়, মিসরে সংবিধান স্থগিত করেছে সে দেশের সেনাবাহিনী। মিসরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে দেশটির সেনাপ্রধান ঘোষণা দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি আর মতায় নেই।
সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি তার ভাষণে সংবিধান স্থগিতেরও ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, একটি নতুন নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত সংবিধান স্থগিত থাকবে এবং এ সময় পর্যন্ত অন্তর্বরর্তীকালীন সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন দেশটির সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি।
দেশটির সর্বোচ্চ ইসলামিক কর্তৃপ এবং কপটিক চার্চসহ বিরোধী নেতারাও সামরিক বাহিনীর এই পদপেকে সমর্থন করেছে।
এ ঘোষণার পর থেকেই উল্লাসে ফেটে পড়ে তাহরির স্কয়ারে অবস্থানরত বিােভকারীরা। সেখানে দফায় দফায় আতশবাজি পুড়িয়ে আর লেজার রশ্মি জ্বালিয়ে উল্লাস করছে জনতা।
সংবিধান স্থগিত ঘোষণার পর ােথকেই মোহাম্মদ মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডের মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেলের সমপ্রচার বন্ধ হয়ে গেছে।
অবশ্য মুরসির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, এটা কোনো সেনা অভ্যুত্থান নয়।
তবে তার সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে নানা বিভ্রান্তিকর খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে মোহাম্মদ মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড জানাচ্ছে, তিনি নতুন কর্তৃপরে হাতে আটক হয়েছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছুই জানা যায়নি।
এদিকে মিসরের নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মুরসিকে উচ্ছেদ করার যে সিদ্ধান্ত সেনাবাহিনী নিয়েছে তাতে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ওবামা দ্রুত একটি বেসামরিক সরকারের কাছে মতা হস্তান্তরেরও আহ্বান জানান দেশটির নতুন অন্তর্র্বতীকালীন সরকার ও সেনাবাহিনীকে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ মিসরের সব পকেই নিজেদের সম্বরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জার্মানি বলছে, তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে মিসরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
