স্টাফ রিপোর্টার ॥ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার মতো যে কোন স্থানীয় নির্বাচন করতে চাইছে না সরকার। পাঁচ সিটি করপোরেশনে সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের শোচনীয় হারের পর ওইভাবেই সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল সারাদেশের মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে, এ ধারণায় নির্বাচন স্থগিত করা হচ্ছে। তাই তফসিল ঘোষণার পরও সীমানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে জানিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে গণহারে আপত্তি দিচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে গাজীপুরের শ্রীপুর, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া ও রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিন তিন পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য এসব নির্বাচন আটকে গেছে বলে জানিয়েছেন ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগামী ৮ই সেপ্টেম্বর পৌরসভা তিনটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচন কমিশনের সচিব ড. মোহম্মদ সাদিক জানান, পৌরসভা নির্বাচন যেহেতু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে, তাই তাদের অনুরোধে নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি। এখানে ইসির কিছু করার নেই। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী গতকাল সাংবাদিকদের জানান, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্বাচন স্থগিত করার কথা বলা উচিত হয়নি। এতে প্রার্থীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি নির্বাচন কমিশন বিব্রত হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর এভাবে আর যেন কোন নির্বাচন স্থগিত করা না হয় এ জন্য মৌখিকভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগকে সতর্ক করেছে কমিশন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ই আগস্ট বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, রাজশাহীর নওহাটাসহ চার পৌরসভার সীমানা সমপ্রসারণ করা হবে জানিয়ে এ নির্বাচন স্থগিত করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন তারা। গত ১২ই আগস্ট সোমবার গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করতে আরেকটি চিঠি পাঠায় স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ কারণে গতকাল ওই তিন পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত করে কমিশন। এ তিন পৌরসভার তফসিল গত ৩১শে জুলাই ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ওই দিনই এ-সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন নির্ধারিত ছিল এবং সকালের দিকে বেশ কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিলও করেন। কিন্তু দুপুর ১২টায় ইসির নির্দেশে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেন। তফসিল ঘোষণার পর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম শহীদ খান জানান, সরকারের নির্দেশে সীমানা পুনঃনির্ধারণের জন্য এসব পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এখানে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। কয়েকটি পৌরসভায় ২০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে আইনের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ৩২২টি পৌরসভার মধ্যে দশটি পৌরসভায় নির্বাচন স্থগিত হলে আইনের তেমন একটা ব্যত্যয় ঘটবে না। তবে নির্বাচন স্থগিত করা প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচন না করার ব্যাপারে লিখিত কোন আদেশ নেই। তবে অলিখিত নির্দেশনা রয়েছে। এর আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আপত্তির কারণে আরও পাঁচটি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। সীমানা সমপ্রসারণ ও ওয়ার্ড বিন্যাস করা হবে জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একাধিক চিঠি দিয়ে এসব নির্বাচন স্থগিত করতে কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়। যদিও পৌরসভা আইন অনুযায়ী আগামী ২০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেনাসমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৪ঠা আগস্ট রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ৯ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৫ই জুন চার সিটিতে নির্বাচন হলেও বাদ রয়ে যায় ৯টি পৌরসভা। পৌরসভাগুলো হচ্ছে- মানিকগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, রাজশাহীর নওহাটা, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, গাজীপুরের শ্রীপুর, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা ও শরীয়তপুর পৌরসভার নির্বাচন এখন না করার জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এ দুই পৌরসভার সীমানা সমপ্রসারণ করা হবে। অন্য পৌরসভাগুলোর বিষয়ে শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে চিঠি যাবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সাধারণ সদস্য (নারী) ও সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদ শূন্য থাকায় ৩২ ইউনিয়ন পরিষদে আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাঁচ চেয়ারম্যান পদে, দু’টি সংরক্ষিত সাধারণ সদস্য পদে ও ২৫ সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সমপ্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের এ নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুজনিত, পদত্যাগ, অপসারণ ও অন্যান্য কারণে এসব পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। এ নির্বাচন নিয়েও পর্দার আড়ালে নানা খেলা শুরু হয়েছে। ওদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) নির্বাচনের তফসিল ঈদের পরই ঘোষণা করার কথা থাকলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সীমানা নির্ধারণ জটিলতার সমাধান না করায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না। গত বছর ২৯শে এপ্রিল এ দু’টি সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। তবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সীমানা নির্ধারণ জটিলতায় হাইকোর্টের আদেশে আটকে যায় এ নির্বাচন। পরে আদালত এ নির্বাচনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও নির্বাচন নিয়ে জটিলতা রয়েই গেছে। বিরোধপূর্ণ সুলতানগঞ্জকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ওয়ার্ডভুক্ত করা হয়নি। এদিকে সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে কমিশন। তারপরও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোন সাড়া নেই।
জাতীয় নির্বাচনের আগে কোন নির্বাচন চাইছে না সরকার
আপডেট :August 15, 2013
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
