Skip to content

জনপ্রিয় হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মোবাইল ব্যাংকিং। ঈদকে ঘিরে গেল রমজানের শেষ ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এ পদ্ধতির আওতায় বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি গ্রাহকের একাউন্ট রয়েছে, যা গত জুন মাসে দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছিল ১২১ কোটি টাকা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৮৪ হাজার এজেন্ট এ সেবা দিচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তুত করা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে জানা যায়, দরিদ্র ও ব্যাংকিং সেবাবহির্ভূত জনগণকে ব্যাংকিং সেবা দিতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো অর্থ গ্রামীণ এলাকায় বসবাসরত উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে ২০১০ সালে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) কার্যক্রম চালু করা হয়। এ পর্যন্ত মোট ২৬টি ব্যাংককে এ সেবা চালুর অনুমতি দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১৭টি ব্যাংক এ সেবা চালু করেছে। অনুমতি পাওয়া অন্য ব্যাংকগুলোও শিগগিরই এ সেবা চালু করবে। জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, টাকা পাঠানোর যে ক’টি চ্যানেল রয়েছে তার মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং অন্যতম। অতি অল্প সময়ে এ পদ্ধতিতে টাকা পৌঁছে যায় গ্রাহকের কাছে। তাই ইতিমধ্যে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্রমশই মানুষ এ ব্যাংকিংয়ে নির্ভরশীল হয়ে উঠবে বলেও জানান তিনি। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সামপ্রতিক সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকসংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে যেখানে গ্রাহকসংখ্যা ছিল ৪০ লাখ ৬৫ হাজার, সেখানে গত এপ্রিল শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখ ২৫ হাজারে। এক মাসের ব্যবধানে গ্রাহক বেড়েছে ৯ লাখ ৬০ হাজার, যা ১২.৪৭%। এসব একাউন্টের মাধ্যমে শুধু এপ্রিল মাসে ৩ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের মাস মার্চে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। এতে করে এক মাসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা, যা বাড়ার হার ৮.৭২%। আর বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হচ্ছে ১২১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন ধরনের লেনদেনের মধ্যে ‘ক্যাশ ইন’ তথা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় টাকা পাঠানো বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত এপ্রিল মাসে এ প্রক্রিয়ায় লেনদেনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ লাখ, যেখানে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। আগের মাসের তুলনায় এ হার ৭.৭০% বেশি। এছাড়া, এ মাধ্যম ব্যবহার করে অনেকেই এখন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ বা রেমিটেন্সের অর্থ উপকারভোগীর হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলন ও জমাদান, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও উপযোগ সেবার বিল পরিশোধ, বেতন উত্তোলন, প্রবাসী আয় প্রেরণ ও গ্রহণ, সরকারি ভাতা প্রদান ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়। মোবাইল ব্যাংকিং হচ্ছে শাখাবিহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে স্বল্পখরচে দক্ষতার সঙ্গে আর্থিক সেবা পৌঁছে যায় ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে। এটি সুবিধাজনক, সহজলভ্য ও নিরাপদ। দেশব্যাপী যে কোন সময় যে কোন স্থানে সেবার নিশ্চয়তা রয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত ও কম খরচে টাকা লেনদেন এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবায় প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশের যে কেউ, দেশের যে কোন স্থান থেকে মোবাইল ফোন থাকলেই ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারেন। তাকে ব্যাংকের শাখায় যেতে হবে না। কল রিচার্জ বা ফ্লেক্সিলোড করেন যারা, তারাই একাউন্ট খুলে দেবেন, আর ব্যাংকের হয়ে তারাই টাকা-পয়সা লেনদেন করবেন। এক্ষেত্রে গ্রাহকের মোবাইল ফোন নম্বরটি হবে একাউন্ট নম্বর। ব্যাংক কর্তৃক মনোনীত যে কোন এজেন্ট পয়েন্টে মোবাইল একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করা যায়। বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি এরই মধ্যে দেশজুড়ে এজেন্ট মনোনয়ন দিয়েছে। যারা ব্যাংকের এজেন্ট, সনদ ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যানার প্রদর্শন করতে পারবে, তারাই ব্যাংকের গ্রাহক রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫