স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেবে বিএনপি। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ঈদের পর তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিলেও দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আপাতত কঠোর কর্মসূচি না দেয়ার আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠকের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বৈঠক সূত্র জানান, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে চলমান আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি, বিভাগীয় শহরগুলোতে খালেদা জিয়ার সমাবেশ ও গণসংযোগ, দলের জাতীয় ৬ষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠান, আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
শনিবার গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়। রাত ৯টা ১০ মিনিট থেকে শুরু করে বৈঠক শেষ হয় সোয়া ১১টায়।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘কর্মসূচিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামীকাল ১৮ দলীয় জোটের বৈঠকে এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।’
বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপি আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সরকারের আচরণ ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিভাগীয় শহরগুলোতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সমাবেশ ও গণসংযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়াও ঢাকায় সমাবেশ করার আলোচনা হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচির সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো ব্রিফিং করা হয়নি। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রোববার খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকে আলোচনা করে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘আপাতত কঠোর কোনো কর্মসূচি দেয়া হবে না। আগামী সংসদ অধিবেশনসহ নির্বাচন নিয়ে সরকারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। কেন্দ্রীয় নেতারা দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরে যাচ্ছেন। এছাড়া চেয়ারপারসনও গণসংযোগ করবেন।’
অপর একজন সদস্য বলেন, ‘একটি বিশেষ দেশের অনুরোধেই আপাতত সহিংস কর্মসূচি এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওই দেশের রাষ্ট্রদূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরার্মশ দিয়েছেন। একটি সমঝোতারও আশ্বাস দেন তিনি।’
বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর গণি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, এম শামছুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ছাড়াও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে রোববার গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
