Skip to content

গ্রামীণ ব্যাংকের পর লক্ষ্য গ্রামীণফোন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঢাকা: গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার পর গ্রামীণফোনের লাইসেন্সের বৈধতা সম্পর্কিত জটিলতার দিকে নজর দেবে সরকার।

সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলতে গিয়ে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল আবদুল মুহিত।

এছাড়া আগামী এক মাসের মধ্যেই গ্রামীণ কমিশনের সুপারিশগুলো বাছাই করে এ মেয়াদেই বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গ্রামীণ কমিশনের কিউসির প্রতিবেদনটি ‘আংশিক’ মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তবে প্রতিবেদনটির বিষয়ে আমি সন্তুষ্ট।’ প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না এ কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী।

গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংককে রক্ষা করা এবং এর বৈশিষ্ট্য ও এখানে যারা কর্মরত রয়েছে তাদের স্বার্থ করা। এটা করতে গিয়ে অন্য কোথাও ছাড় দিতে হতে পারে।’

সরকারের দ্বিতীয় লক্ষ্য গ্রামীণফোন উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণফোনের লাইসেন্স অবৈধ। লাইসেন্সটা একজন নিয়েছেন আর ব্যবহার করছেন আরেকজন। কমিশনের প্রতিবেদনেও এ কথা বলা হয়েছে। কঠোরভাবে আইন অনুসরণ করা হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু যেহেতু গ্রামীণফোন দেশের একটি বৃহৎ বৈদেশিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সেজন্য গ্রামীণের লাইসেন্স বাতিল করার কথা একবারও বলা হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এছাড়া গ্রামীণফোনের অধিকাংশ শেয়ার হচ্ছে টেলিনরের। তাকে কীভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে? তাছাড়া গ্রামীণফোন তো গ্রামীণ ব্যাংককে চেনে না, তারা চেনে গ্রামীণ টেলিকমকে। তাদের সম্পর্ক হচ্ছে ড. ইউনূসের সঙ্গে। গ্রামীণ ফোনের আরো গভীরে গিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।’

‘গ্রামীণ ব্যাংক একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান’ দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৯ সালে সরকারি অর্থায়নেই গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। গ্রামীণ ব্যাংক হচ্ছে স্ট্যাটিটিউটরি বডি। এর সব শেয়ার সরকারের। কিন্তু ইউনূস সাহেব এটাকে নিজের প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের নাম যেভাবে ব্যবহার করেছেন এবং ব্যাংকের পরিচালকদের জন্য নিজে যে বিধান চালু করেছেন তা অবৈধ।’

গ্রামীণফোনের কাছ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রাপ্য টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি ইউনূস সাহেব জানেন। আর এখানে টাকা লেনদেনের প্রক্রিয়াটিও গোলমেলে। কমিশন পুরো বিষয়টি এখনো বের করতে পারেনি।’

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ‘আন্তর্জাতিক চাপ’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইউনূস সাহেবই এগুলো করিয়েছেন। প্রেসার ফিল করেছি এ কারণে যে, একেক দিন একেক দেশের মন্ত্রী ও কংগ্রেসম্যানরা চিঠি লেখেন, আর তারা সেটা প্রকাশ্যে লেখেন। তাদের এসব চিঠির জবাব দিতে গিয়ে আমার অনেক সময় নষ্ট হয়েছে।’

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ড. ইউনূসের প্রচারণা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ড. ইউনূস এটা করছেন। তিনি রাজনীতিবিদ, কিন্তু রাজনীতিবিদদের পোশাক পরেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ড. ইউনূস যখনি বিপদে পড়েছেন সরকার তাকে সাহায্য করেছে, আর যখন সুখে ছিলেন তখন সরকারের কাছে আসেন নাই। যা খুশী তা-ই করেছেন। সেই হিসেবে সরকারকে এখন দোষারোপ করা হচ্ছে।’

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫