স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর পলাশী এলাকায় বিশাল এক পোস্টার। টানানো হয়েছে ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের পক্ষ থেকে। লেখা আছে, ‘ড. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন ভাইয়ের সালাম নিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন।’
তার আরেকটি পোস্টারে লেখা আছে, ‘উন্নয়নের মার্কা নৌকা, উন্নয়নের জন্য দরকার শেখ হাসিনা সরকার।’
ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।
ঠিক একটু দূরে ইডেন মহিলা কলেজের সামনে আওয়ামী লীগের আরো একটি বড় ব্যানার। ব্যানারটি টানিয়েছেন লালবাগ আ’লীগনেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসিবুর রহমান মানিক।
এতে লেখা আছে, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি আইনের শাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিন।’
শুধু লালবাগ এলাকায় নয় ধানমন্ডি ও হাজারিবাগ এলাকায় নৌকা মার্কায় ভোট চাই ব্যানার-আর পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে। এই এলাকার সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস সবার কাছে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করছেন।ন-ং
নগরীর অধিকাংশ স্থানে আ’লীগ ব্যানারে যেন নির্বাচনী হাওয়া।
তবে ভিন্ন অবস্থা দেখা গেল, বিএনপির ব্যানার আর পোস্টারগুলোতে। তাদের ব্যানার-পোস্টারে নির্বাচনের চেয়ে তত্ত্বাবধায়ক ও নির্দলীয় সরকারের দাবিটা জোরালে হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতের বড় একটি ব্যানার টানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবীব-উন-নবী খান সোহেল। ব্যানারে লেখা আছে, অনতিবিলম্বে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই।
আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে এক ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে হবে-তা সম্পর্কে এখনও কেউ পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছেন না। বৃহৎ দুটি দলের মধ্যে এ নিয়ে রয়েছে চরম মতভেদ।
অধিকাংশ জনসভা ও সাধারণ বৈঠকে আ’লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন,‘নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হয়েছে। এতে করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো দরকার নেই। এ ছাড়া এই প্রথা হাইকোর্ট বাতিল করেছে। তাই আগামী নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হবে।’
অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলছেন, আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। এ ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হলে তা প্রতিরোধ করা হবে।
আগামী জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের বৃহস্পতিবারকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন মনে করা হচ্ছে। সেই পথ ধরে নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, এমনটি ধরে নিয়েই এগুচ্ছে ইসি। তবে নির্বচন কমিশন সচিবালয় থেকে দশম জাতীয় নির্বচনের কোনো দিন তারিখ ঠিক করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ বলেন,‘ জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন-তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। সব দলের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চাই ইসি। প্রয়োজন হলে বড় দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসা হবে।’
